প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উদযাপিত
মোঃ রিদুয়ান চৌধুরী, সংবাদদাতা ||
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এটি ছিল ৫৫তম জশনে জুলুস। মহানবীর (সা.) জন্ম ও ওফাতের এই পবিত্র দিনটিতে নবীপ্রেমিক লাখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বন্দরনগরী।
সকাল থেকেই নগরীর ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে এই আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ ও ‘রিসালাত জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষ প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও সুদৃশ্য পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নেন। জুলুসটি নির্দিষ্ট রুট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জামেয়া মাদরাসা ময়দানে এসে শেষ হয়।
ঐতিহাসিক এই জুলুসে নেতৃত্ব দেন দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে প্রথম এই জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেছিলেন, যা আজ বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান প্রতীকে রূপ নিয়েছে। জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণ এবং বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে রাস্তার দুপাশে অবস্থান নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শরবত ও তাবারক বিতরণ করা হয়।
বিশাল এই জনসমাগম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশনায় জুলুস চলাকালীন নির্দিষ্ট কিছু সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রায় দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরিশেষে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে এই ঐতিহাসিক জশনে জুলুসের সমাপ্তি ঘটে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব