প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইদে মিলাদুন নবী সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?
মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন , ✅ গণমাধ্যম কর্মী ||
ঈদে মিলাদুনবী সা: (মিলাদুন্নবী উদযাপন) নিয়ে মুসলিম বিদ্বানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতভেদ আছে। নিচে দুই পক্ষের মূল অবস্থান তুলে ধরছি: মিলাদুন্নবী কী"মিলাদ" (میلاد) শব্দের অর্থ জন্ম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ১২ রবিউল আউয়াল (কিছু মতে ৯ রবিউল আউয়াল) তারিখে তাঁর জীবনী, ফজিলত ও সীরাত আলোচনা, দরুদ-সালাম পাঠ, এবং কোথাও কোথাও শোভাযাত্রার মাধ্যমে যে অনুষ্ঠান পালিত হয়, তাকে "ঈদে মিলাদুন্নবী" বলা হয়।যাঁরা পালনের পক্ষে (অধিকাংশ সুন্নি/বেরলভি ধারা)| যুক্তি | ব্যাখ্যা || রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ | সীরাত আলোচনা ও দরুদ পাঠ নিজেই একটি নেক আমল, যা যেকোনো সময় করা যায় || কুরআনে ইঙ্গিত | সূরা ইউনুস ১০:৫৮ আয়াতে "আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আনন্দ প্রকাশ" করতে বলা হয়েছে, আর রাসুল (সা.) নিজেই বিশ্বের জন্য রহমত (২১:১০৭) || সোমবার রোজার হাদিস | রাসুল (সা.) সোমবার রোজা রাখতেন এই বলে যে, ঐদিন তাঁর জন্ম হয়েছিল — এটাকে পক্ষের আলেমরা জন্মদিনকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রমাণ মনে করেন | যাঁরা বিদআত মনে করেন (সালাফি/দেওবন্দি ধারা)| যুক্তি | ব্যাখ্যা || নতুন উদ্ভাবিত প্রথা | রাসুল (সা.), সাহাবি, তাবেঈ — কেউই নির্দিষ্ট দিনে জন্মদিন উদযাপন করেননি || হাদিস | রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত" (বুখারি, মুসলিম) || অমুসলিম রীতির সাদৃশ্য | জন্মদিন উদযাপনকে খ্রিস্টান/অন্য ধর্মের সংস্কৃতির অনুকরণ হিসেবে দেখেন এই পক্ষের আলেমরা || সহি তারিখ নিয়ে দ্বিমত | ১২ রবিউল আউয়াল তারিখ নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে |এটি ফিকহি মতভেদের বিষয় — কোনো একক "সঠিক" উত্তর নেই যা সব আলেমসম্মত। বাংলাদেশে দুই ধারার অনুসারীই আছেন। আপনি যে মাযহাব/ইমামের অনুসরণ করেন, তাঁর মতানুযায়ী চলাই ভালো, অথবা স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নিতে পারেন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব