প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
কুয়াকাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দুই বছর অনুপস্থিত, নিয়মিত বেতন নেওয়ার অভিযোগ
মো: হাসিব পেসকার, ✅ গণমাধ্যম কর্মী ||
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার। দীর্ঘ সময় একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক পদায়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে চারজন শিক্ষককে দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি শ্রেণিতে নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত পাঠদান ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার জানান, সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তার দাবি, একজন শিক্ষক দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও পদটি কার্যত পূরণ না হওয়ায় অন্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।এতে শিক্ষিকা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করে আনা হোক। বিশেষ করে শিক্ষিকার উপস্থিতির তথ্য, ছুটির নথি, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, দায়িত্ব বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি যাচাই করা হলে দীর্ঘ অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের সময়কালে বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টিও বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। এতে নিয়মিত বেতন নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে।অভিযোগকারীদের আরও দাবি, তদন্তে যদি শিক্ষিকার দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং এর পেছনে অনুমোদিত কোনো কারণ না থাকে, তাহলে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি না হয়, সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে বিকল্প শিক্ষক পদায়ন বা প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পাঠদান স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে তার অবস্থান এবং দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে কি না, সেটিও জানা যাবে। তাই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব