প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামাবাদে হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন — পাকিস্তানের রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। �
মোঃ হারুন অর রশিদ খান , গণমাধ্যম কর্মী ||
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে Pakistan Institute of Medical Sciences (PIMS) হাসপাতালের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের নবজাতক ওয়ার্ডে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত নবজাতক ওয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকজন মা ও হাসপাতালের রোগীদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একাধিক ফায়ার ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণের পরও হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে শীতলীকরণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালানো হয়।এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নিহত নবজাতকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।ঘটনার পর হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার কারণ ও হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন। কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি উদ্ধারপ্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।এক মর্মান্তিক ঘটনায় একসঙ্গে এতগুলো নবজাতকের মৃত্যুতে ইসলামাবাদসহ পুরো পাকিস্তানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সূত্র: Reuters, AP, The Guardian, পাকিস্তানি সরকারি সূত্র।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব