প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
গাজীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
মোঃ সাইদুল ইসলাম , সংবাদদাতা ||
গাজীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগকোর্ট ভবন ও টঙ্গী রেলস্টেশন ঘিরে দুই তরুণকে হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত দাবিগাজীপুর প্রতিনিধি:গাজীপুরের টঙ্গী ও গাজীপুর আদালত ভবনকে ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে দুই তরুণকে পৃথকভাবে আটক, নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, পুলিশের পোশাক ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগ অনুযায়ী, গাজীপুর আদালত ভবন এলাকায় জিসান নামের এক তরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তাকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল।অন্যদিকে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় বাচ্চু মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি ও টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। স্বজনদের ভাষ্য, তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।দুই ঘটনার অভিযোগে মিলভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুই ঘটনাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ভয় দেখানো এবং চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।তাদের আরও দাবি, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলে তারও প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি।পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের প্রয়োগ করা। ফলে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন, চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা উচিত। কারণ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ।পরিবারের দাবিভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা প্রতিহিংসা নয়, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। তাদের বক্তব্য, তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানান।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিদুই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আটক, মামলা, জিজ্ঞাসাবাদ ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কোনো নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা অন্যান্য প্রমাণ থাকলে সেগুলো যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রতিবেদকের মন্তব্য:এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযোগের সত্যতা আদালত বা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব