প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মিথুন শিল, সংবাদদাতা ||
জাতীয় কবি, বিদ্রোহ ও সাম্যের প্রতীক কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ ভাদ্র তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া নজরুল দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। মাত্র প্রায় ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় রেখে যান অসামান্য সৃষ্টি। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে সাম্য, মানবতা, প্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়-শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা।‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত নজরুল ছিলেন একই সঙ্গে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, নাট্যকার ও গীতিকার। তাঁর হাজারো গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয়। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর একুশে পদকে ভূষিত হন।মৃত্যুর পরও নজরুলের সৃষ্টি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব রেখে চলেছে। তাঁর সমাধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে। ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব