প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
আশুলিয়ায় প্রায় ২ কোটি টাকার অবৈধ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ
মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ, সংবাদদাতা ||
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। তবে মালিক সাজ্জাদ হোসেন শান্তকে আটক করা সম্ভব হয়নি।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার এসএ পরিবহনের গলিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।আটক মো. ইকবাল হোসেন (২৬) রাজবাড়ীর পাংশা থানার পূর্ব বাগদুলী গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তিনি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চার লাখ টাকা জরিমানা এবং ভবনটি সিলগালা করেছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে সেটি খুলে দেওয়া হয়। তখন অবৈধ পণ্য ধ্বংস করে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।অভিযান শেষে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে অবৈধ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।তিনি আরও বলেন, জব্দ পণ্যের অধিকাংশই ভারত থেকে আনা বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব পণ্যের গায়ে ‘Use for only India’ লেখা রয়েছে। পণ্যগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়নি।ইউএনও ব্যাখ্যা করে বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় পণ্য আমদানি না হলে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি এসব পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের সুযোগও থাকে না। এ কারণে এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে।অভিযানে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন শান্ত ঢাকার বাইরে আছেন দাবি করায় তাকে আটক করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা ম্যানেজারকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্য আমদানি ও সংরক্ষণের অভিযোগে আটক কর্মীর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযানকালে আফনা নামের একটি ট্রেড লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়, যাতে ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে। তবে জব্দ পণ্যের সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় ট্রেড লাইসেন্সটি বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।অভিযান শেষে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল দুটি ট্রাকে করে নিয়ে যায় উপজেলা প্রশাসন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব