প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বেহাল দশা, ঔষধ ও চিকিৎসক সংকটে রোগীরা
মোঃ মামুনুর রশীদ , গণমাধ্যম কর্মী ||
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালটিতে জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওষুধ সরবরাহ করেনি। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে যেসব ওষুধ সরাসরি কেনার কথা, তা-ও কেনা হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া হাসপাতালের বিতর্কিত 'পর্দা কেলেঙ্কারি'র ঘটনাতেও জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবসায়ী। ফলে হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, চিকিৎসক সংকট দূরীকরণ কিংবা নিয়মিত ওষুধ সরবরাহের দাবিতে কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের জোরালো কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। ভালো কোনো চিকিৎসক পদায়িত হয়ে আসলেও এক মাসের বেশি এই হাসপাতালে থাকেন না। ফলে তীব্র চিকিৎসক সংকটের কারণে বর্তমানে কয়েকজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।সীমাহীন সংকটের মধ্যেও ডা. নিপু সুলতানা ও ডা. সামিনা খাতুন দিনরাত পরিশ্রম করে রোগীদের আন্তরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, যা সেবাগ্রহীতাদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। তবে অন্য কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বেশি আয়ের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ বেসরকারি ক্লিনিকে কমিশন বা পার্সেন্টেজের বিনিময়ে রোগী দেখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, হাসপাতালের হৃদরোগ (হার্ট) বিশেষজ্ঞও মেহেরপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত সময় দেন। এছাড়া হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন এবং ব্যবস্থাপত্রে ল্যাবের নামও উল্লেখ করে দেন।হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশই হতদরিদ্র ও অসহায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা তাদের গ্যাসের ওষুধ কিংবা জরুরি ইনজেকশন পর্যন্ত সরবরাহ করতে পারছেন না। সরবরাহ না থাকা সংকটপূর্ণ ওষুধের মধ্যে রয়েছে—ইনজেকশন ওমিপ্রাজল, সেফট্রিয়াক্সন (১ গ্রাম ও ২৫০ মি.গ্রা.), মেরোপেনেম (১ গ্রাম ও ৫০০ মি.গ্রা.), ডায়াজিপাম, কিটোরোলাক, ফুরোসেমাইড, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ফেক্সোফেনাডিন, সেফিক্সিম, মন্টিলুকাস্ট, সালবুটামল এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেটসহ আরও অনেক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপারিনটেনডেন্ট) ডা. সাজ্জাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন খান দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখলেও স্থানীয়দের দাবি, তিনি যেন ওষুধ ও চিকিৎসক সংকট সমাধানে জরুরি হস্তক্ষেপ করেন। একই সঙ্গে মেহেরপুরের লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি কামনা করেছেন সচেতন মহল।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব