প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাত নির্দেশনা
মোঃ হারুন অর রশিদ খান , গণমাধ্যম কর্মী ||
ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০২৬: রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রযুক্তিনির্ভর টোল ব্যবস্থাপনাযানজট কমাতে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইটিসি বা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে টোল আদায় প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরিরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান এলাকায় বিশেষ গুরুত্বরাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনেও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েটের পূর্বে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগরাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপ কমাতে বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।একই সঙ্গে যানবাহন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট স্থানান্তরের সিদ্ধান্তরাজধানীর যানজট কমানোর অংশ হিসেবে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের আশা, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় বাজারকেন্দ্রিক যানবাহন ও মানুষের অতিরিক্ত চাপ কমাতে পারলে সড়কে যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে।সচিবালয় এলাকায় পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নসচিবালয়ের চারপাশের যানজট কমাতে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থানও খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।অটোরিকশার জন্য পৃথক নীতিমালারাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার ও স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সরকারের এই সাত নির্দেশনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে নগরবাসী। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব