প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
দিনে রোদ, রাতে গরম তাড়াইলে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ
সুলাইমান আহমদ, সংবাদদাতা ||
দিনের বেলায় তীব্র রোদ ও দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরম। এর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার মানুষের জীবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আর বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা ও মুরগির খামারেও দেখা দিয়েছে ক্ষতির আশঙ্কা।উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে বয়স্ক মানুষদের।তিনি বলেন, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না তিনি।চান্দু ভূঁইয়া বলেন, “আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধে সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি।”লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মুরগির খামারেও। আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে তাঁর ব্যবসার কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।জসীম উদ্দিন বলেন, “সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।”স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বাড়ছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অভাবে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও সমস্যা হচ্ছে।তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তীব্র গরমে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে উৎপাদন কম থাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।তাড়াইল জোনাল অফিস, কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে সারাদেশে বিদ্যুতের লোড বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে।তিনি বলেন, “তাড়াইল উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাড়াইলের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব