প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
বিমানবন্দরে স্বর্ণ ছিনতাই: বিএনপি ও ছাত্রদলের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
মোঃ মিজানুর রহমান মিনজু, আপনার ডকুমেন্ট ডেলিভারি ক্যানসেল করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট এখনো অনুমোদিত নয় দ্রুত চালু করতে এখনই কল করুন 01784157260 অডিও ভিডিও সংবাদ আপনার জন্য অ্যাকাউন্ট চালুতে কল করুন ||
রাজধানী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর ভাইয়ের কাছ থেকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।তারা হলেন- বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক রয়েছে।শনিবার রাতে ও রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর ভাইয়ের মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট প্রবাসীর ভাই মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। বিমানবন্দর থানার মামলা নম্বর ৪৬। মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে ১ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে ২ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত তিন নম্বর আসামি ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই কাউসার মালেয়শিয়া প্রবাসী। গত ২৮ আগস্ট বড় ভাই আমার বোনের বিবাহ ও আমার পরিবারের ব্যবহারের জন্য মালেয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠায়।পরবর্তীতে আমি ও আমার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ওইদিন রাত ৮ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বড় ভাইয়ের পরিচিত লোকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও আমার বন্ধু রোহানের কাছে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে ভাড়াকরা হায়েচ গাড়িতে উঠি।তিনি বলেন, সেখান থেকে রাত ৮টা ৫ মিনিটে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কস্থ বলাকা ভবনের বিপরীত পাশের রাস্তায় গেলে আসামিরা বলেন আমরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ করি এবং আমাদের কাছে বোম আছে। এই কথা বলার পর এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।এরপর স্থানীয়রা দুইজনকে উদ্ধার করে। এসময় একজন পথচারী আমাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে ও অপর একজন পথচারীর কৌশলে তাহার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। একপর্যায়ে আরও লোকজন আসতে দেখে আসামিরা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।আসামি মিতু আক্তার ও যাত্রাবাড়ী থানা। ছবি: সংগৃহীতআসামি মিতু আক্তার ও যাত্রাবাড়ী থানা। ছবি: সংগৃহীতরাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাহাজত থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি মিতু আক্তারকে কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার হাজত থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান মিতু। তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় করা একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওই মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। বৃহস্পতিবারই তার রিমান্ডের শেষ দিন ছিল।পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাজতের গেটের তালা খুলে বের হয়ে যান মিতু। নারী আসামিদের সাধারণত হ্যান্ডকাফ পরানো হয় না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি থানা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।ওয়ারী বিভাগের এডিসি (ডেমরা জোন) মহসিন মাসুদ জানান, মিতু পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে ধরতে যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশের একাধিক দল। যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আলাদা টিম দায়িত্ব পালন করে।থানা হেফাজত থেকে পালানো সেই নারী আসামি আটকশুক্রবার রাতে মিতুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিক।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব