প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাভারে ডিবির অভিযানে পেশাদার চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ, সংবাদদাতা ||
সাভারে ডিবির অভিযানে পেশাদার চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তারঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা পেশাদার চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাই একটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অন্তত দুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি ও চোরাই মালামাল নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের অতীত অপরাধের ধরন ও তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন যাদুরচর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ।ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে চোর চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কক্সবাজারের চকরিয়া থানার কোনাখালী চরপাড়া এলাকার মৃত ফিরোজের ছেলে মো. হামিদ (৩৬), চকরিয়ার কোনাখালী এলাকার মৃত বদি আলমের ছেলে মো. আলম আলমগীর (২৮), একই এলাকার মৃত মোক্তার আহম্মেদের ছেলে মো. কাউছার (৩২), কোনাখালী চরপাড়া এলাকার ফিরোজ আহম্মেদের ছেলে মো. রুবেল (২৬) এবং পেকুয়া থানার সিকদারপাড়া এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন রানা (২৪)। তাদের বর্তমান ঠিকানা সাভারের আলম হাউজিং ও আলমনগর হাউজিং এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।অভিযানে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে ১টি সিলভার রঙের HP ProBook ল্যাপটপ, বিভিন্ন কোম্পানির ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ১টি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. আলম আলমগীরের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি ও চোরাই মালামাল হেফাজতে রাখার অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে। অপর আসামি মো. কাউছারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি সংঘটিত হওয়ার পর চোরাই মালামাল দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার কারণে অনেক সময় মূল চক্রকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনগুলোর মালিকানা এবং এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, যোগাযোগের তথ্য এবং তাদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, চুরি ও চোরাই মালামালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তারা কোথা থেকে এসব মালামাল সংগ্রহ করেছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অতীতে একই ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। চোর চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা রুজু করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রকৃত মালিকানা এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে থাকা আগের মামলাগুলোর তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদে সাভারসহ আশপাশের এলাকায় সংঘটিত আরও কয়েকটি চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব