প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
আলী আহমদ , সংবাদদাতা ||
রাজনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। **৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬**মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিয়ের পর এক গৃহবধূকে স্বামীর বন্ধুর মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে রাজনগর থানা পুলিশ।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাজনগর উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগানের মৃত মতিহাস মুন্ডার ছেলে **সাজন মুন্ডা (২৭)** এবং লাচানা গোয়ালার ছেলে **অজয় গোয়ালা (২২)**।পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মোমিনছড়া চা-বাগানের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে সাজন মুন্ডার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। এ সময় মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৯ মার্চ সাজন তাকে ফোন করে জানান, বিয়ের পর প্রথম রাত তার বন্ধু অজয় গোয়ালার সঙ্গে কাটাতে হবে। বিষয়টিকে রসিকতা মনে করে তখন তিনি গুরুত্ব দেননি। পরদিন ১০ মার্চ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী সাজন ও ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি করিমপুর চা-বাগানে বসবাস শুরু করেন।অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের দুই দিন পর ১২ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাজন তার বন্ধু অজয়কে ঘরে প্রবেশের সুযোগ দেন এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় অজয় জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় স্বামী সাজন সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে জুলাই মাসে সাজন সিলেটে চাকরি নেওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানেও অজয় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর স্বামী ও তার বন্ধু তাকে না জানিয়ে পিতৃগৃহ মোমিনছড়া চা-বাগানে রেখে আসেন এবং তাকে ডিভোর্স দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান ভুক্তভোগী। স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগ পাওয়ার পর রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) **এনামুল হক চৌধুরীর** নেতৃত্বে এসআই আলমগীর কবিরসহ পুলিশের একটি দল করিমপুর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সাজন মুন্ডা ও অজয় গোয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।রাজনগর থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব