প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তাড়াইলে আমন মৌসুমে সারের সংকট, বাড়ছে কৃষকের দুশ্চিন্তা
সুলাইমান আহমদ, সংবাদদাতা ||
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় আমন চাষের মৌসুম শুরু হতেই কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় মাঠে সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। তবে এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার সংগ্রহ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক চাষি। এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ঘুরেও চাহিদামতো ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সারের প্রাপ্যতা নিয়ে এমন মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে। কোথাও সীমিত পরিমাণে সার পাওয়া গেলেও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আমন আবাদকে কেন্দ্র করে উপজেলায় সরকারিভাবে ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯০১ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ও হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন চাষি বলেন, প্রয়োজনের সময় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন ডিলারের কাছে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক সময় সার না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। আবার কোথাও সার পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া সারের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় উপজেলায় সার সংকটের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং কৃষি বিভাগের তদারকির মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী তা বিতরণ করা হচ্ছে। এরপরও কোনো কৃষক কেন প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।কৃষকদের দাবি, আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যেন সার নিয়ে তাদের হয়রানি হতে না হয়, সে জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা এবং নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব