প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জে খতমে নবুওয়ত সম্মেলন
সুলাইমান আহমদ, সংবাদদাতা ||
কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং এ দাবিতে জাতীয় সংসদে বিল পাসের আহ্বান জানিয়ে কিশোরগঞ্জে সম্মেলন করেছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ।সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, “আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে জাতীয় সংসদে বিল পাস করে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করুন। এর মাধ্যমে তৌহিদি জনতার দীর্ঘদিনের দাবি ও ক্ষোভের অবসান ঘটান।”তিনি আরও বলেন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর আঘাতকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের ওপরে কালেমা খচিত ক্যালিগ্রাফি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার নিজেদের ইসলামবান্ধব হিসেবে তুলে ধরেছে—এটি প্রশংসনীয়। সরকার যদি সত্যিই ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে তৌহিদি জনতার দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী। কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে তারা সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে।সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ বলেন, খতমে নবুওয়তের আকিদা সংরক্ষণের আন্দোলনে কিশোরগঞ্জের তৌহিদি জনতা সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। ঈমানের স্বার্থে কিশোরগঞ্জের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে রক্ত দিতে প্রস্তুত, তবে খতমে নবুওয়তের পবিত্রতায় কোনো ধরনের আঘাত মেনে নেওয়া হবে না।তিনি আরও বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা না করা পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।সম্মেলনে কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহীদি মসজিদ চত্বর বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।মুফতি আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, পীর মাওলানা শাহ ইসমাঈল, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি বশির উল্লাহ, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা মুহিবুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা উবায়দুল্লাহ আনোয়ার, মাওলানা সাঈদ আহমাদ, মুফতি সুলতান আহমদ জাফরী, মুফতি মাহমুদ হাসান কাসেমী ও মাওলানা আব্দুল আহাদসহ কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও ওলামায়ে কেরাম।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব