প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যতিক্রমী কায়দায় চুরি: হুমকি দিয়ে লোগাঙে ব্যবসায়ী কাউসারের দোকানে চুরির পর চোর হাসান আটক, এলাকা থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত
আমির হামজা , সংবাদদাতা ||
আগে থেকেই ঘোষণা বা 'ডিক্লারেশন' দিয়ে অভিনব কায়দায় চুরির পর অবশেষে মালামাল ও সরঞ্জামাদিসহ স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছে চিহ্নিত চোর 'হাসান'। খাগড়াছড়ির পানছড়ির লোগাং এলাকায় ব্যবসায়ী কাউসার মিয়ার দোকানে গভীর রাতে হানা দিয়ে নগদ টাকা, সিগারেট ও প্রাইমারি স্কুলের বইসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটে নেওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগেরও একাধিক চুরির রেকর্ড থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকার বিচারক মণ্ডলী তাকে এলাকা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে লোগাং বাজারের ব্যবসায়ী কাউসার মিয়ার দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোর হাসান দোকানে প্রবেশ করে ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ খুচরা কয়েন, সিগারেট ও দোকানের মূল্যবান সামগ্রীর পাশাপাশি প্রাইমারি স্কুলের বইপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল বস্তাবন্দী করে নিয়ে চম্পট দেয়।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী কাউসার মিয়া জানান, চুরির এই ঘটনাটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। গত কিছুদিন আগে হাসান তার দোকানে এসে সিগারেট ধার চায়। কাউসার মিয়া সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্যেই তাকে দোকান চুরি করার হুমকি দেয়। সে চুরির যে ঘোষণা দিয়েছিল, আজ ভোররাতে ঠিক সেই কায়দাতেই দোকানের তালা ভেঙ্গে ফাঁক করে মালামাল নিয়ে যায়।তবে চুরির পর মালামাল নিয়ে পালানোর সময় হাসানকে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা-পয়সা, প্রাইমারি স্কুলের বই এবং তালা ও সাটার ভাঙার কাজে ব্যবহৃত হাতুড়ি, প্লাস, স্ক্রু-ড্রাইভার ও টর্চলাইট উদ্ধার করা হয়। আটকের পর নিজের অপরাধ স্বীকার করে কান্নায় ভেঙে পড়ে হাসান।এদিকে আটকের পর জানা যায়, হাসানের বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও অসংখ্য চুরির রেকর্ড রয়েছে। তার বারবার এমন অপরাধে লোগাং এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিচারক কমিটি এক জরুরি বৈঠকে বসেন। হাসানকে আর এলাকায় থাকতে না দেওয়ার পক্ষে একমত হন তারা। বিচারক কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সমাজ ও এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারক মণ্ডলীর সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যতের কঠোর সতর্কবার্তা সাপেক্ষে বর্তমানে হাসানকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব