প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খুলশীর জালালাবাদে বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযান
মোঃ ফজলুল আব্বাস চৌধুরী, সংবাদদাতা ||
মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের ঘিরে দুটি অভিযানে সামনে এসেছে প্রায় একই ধরনের চিত্র।চট্টগ্রামের খুলশী জালালাবাদ এলাকায় একটি পুরো ভবন ভাড়া নিয়ে চলা কথিত কর্মকাণ্ডে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৫ দেশের প্রায় ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে বিপুলসংখ্যক ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ ক্যাসিনো খেলার আলামত এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছিল।এর মাত্র সাত দিন আগে, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে চীনের পাঁচ নাগরিক ও তাইওয়ানের একজনকে আটক করা হয়। ওই অভিযানে প্রায় ২ হাজার আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপ উদ্ধারের তথ্য সামনে আসে।দুই শহরের ঘটনাকে পাশাপাশি রাখলে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে আসে।বন্ধ দরজার আড়ালে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান, একসঙ্গে বিপুল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, এবং এসব কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য।কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার বিভিন্ন হোটেলে চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক অবস্থান করছিলেন বলেও তথ্য এসেছে। অন্যদিকে, খুলশীর ভবনটিতে ঠিক কতদিন ধরে কার্যক্রম চলছিল, কারা তাদের ভাড়া দিয়েছিল, কোন প্রতিষ্ঠানের নামে বা কোন ধরনের ভিসায় তারা বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।দুই শহরের অভিযানে পাওয়া তথ্যগুলো যোগ করলে সামনে আসে অন্তত ৭৬ বিদেশি নাগরিক এবং দুই হাজারের বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বিষয়টি।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই—এত বিদেশি নাগরিক, এত ল্যাপটপ-মোবাইল ও অন্যান্য সরঞ্জাম—কীভাবে এতদিন ধরে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক শহরে এক ছাদের নিচে জড়ো হলো?নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কোন স্তরে ঘাটতি ছিল?তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ, ভিসা, আবাসন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনুমোদন কীভাবে হয়েছে?আর এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত কি না—এখন তদন্তেই তার উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।রাত ১১টায়ও খুলশীর জালালাবাদে অভিযান চলছিল। ফলে অভিযান শেষ হলে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম, আটক বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব