প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
অহিদুল ইসলাম , সংবাদদাতা ||
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় রিনা আক্তার (৩২) নামে দুই সন্তানের এক গৃহবধূর মরদেহ তাঁর নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে সুমন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নিহত রিনা আক্তার ওই গ্রামের মৃত আব্দুস বাছেতের ছেলে সুমন সরকারের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামে। তিনি ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে। রিনা আক্তার এক ছেলে ও এক মেয়ের মা।স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিনা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ সময় সুমন তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে প্রতিবেশীরা রিনাকে তাঁর ঘরে দিয়ে যান। এরপর গভীর রাতে কোনো এক সময় ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে হত্যা করে সুমন পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।রিনার শাশুড়ি অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুমন তাঁর স্ত্রীকে মারধর করছিলেন। তিনি রিনাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সুমন তাঁকেও মারধর করেন। পরে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করে রিনাকে ঘরে দিয়ে আসেন। রাতের কোনো এক সময় রিনাকে হত্যা করে সুমন আত্মগোপনে চলে যান বলে তাঁর দাবি। তিনি ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এদিকে বাড়ির পাশের বাসিন্দা ও প্রবাসফেরত আলম জানান, শুক্রবার রাতের ঘটনার পর সকালে ফজরের নামাজ শেষে সুমনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি তাড়াহুড়ো করে সেখান থেকে চলে যান।খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই রিনা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব