প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জমি বিক্রির নামে-৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতারক ‘কাজী জয়নাল’ গ্রেপ্তার
মোঃ নাঈম সরকার রিফাত, সংবাদদাতা ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিজমি বিক্রির নামে ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জয়নাল আচবেদীন ওরফে ‘কাজী জয়নাল’ নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।প্রতারণার শিকার হয়ে টাকাও জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসমত খন্দকারসহ একাধিক ভুক্তভোগী।ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ঘাটুরা খন্দকার বাড়ির বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে হাসমত খন্দকার এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার সুমন যৌথভাবে গত,২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘাটুরা কাজী বাড়ির বাসিন্দা কাজী জয়নালের নিকট থেকে,১২.১২ শতাংশ জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রি বায়না পত্র বাবদ নগদ,-৪১ লাখ টাকা নগদ-৯,লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দেয়া হয়। পরবর্তীতে দলিল করার তারিখে পুনরায়,৯ লাখ টাকা কেশ সহ মোট,৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।এবং ৯ লাখ টাকার ব্যাংক চেকটি ভুলে বাসায় ফেলে আসছে বলে জানায়।পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন করতে গেলে প্রতারক কাজী জয়নাল প্রস্রাব করার কথা বলে সটকে পড়েন। হাসমত খন্দকার, তার পার্টনার সুমন এবং কাজী জয়নালের ভাইরা ভাই মুরাদ লস্কর সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অফিসে অপেক্ষা করলেও তিনি আর ফিরে আসেননি।ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্যাস ফিল্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে জয়নাল জমি হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়ে মাসের পর মাস ঘুরাতে থাকেন এবং তার কোনো সমাধান দেননি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক কাজী জয়নাল দাঁড়ি টুপি পড়া সুন্নতী লেবাসের আড়ালে গ্যাস কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডিজিএম-এর নাম ভাঙিয়ে এবং তার নিজের বড় গোষ্ঠীর প্রভাব দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ঘাটুরা সরকার বাড়ির জহির ও হরিণাদী বাড়ির গৌতম পাড়ার অধিবাসীসহ একাধিক ব্যক্তির জমি ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৪-৫টি প্রতারণার মামলাও রয়েছে।তারমধ্যে রয়েছে সিআর নং,৩১৫১/২৫ সদর, জিআর নং,৫৭ তারিখ,২৯-০১-২৬ সদরসিআর নং,১০১৫/২৫ তারিখ,২৯-০২-২৫ সহ অসংখ্য মামলা রয়েছে কাজী জয়নালের বিরুদ্ধে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসমত খন্দকার বলেন, “তার সুন্নতী লেবাসও প্রভাবের ফাঁদে পড়ে আমার মতো মানুষও রেহাই পায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এই চিহ্নিত প্রতারককে গ্রেপ্তার করার জন্য।আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যেন আমার কষ্টে অর্জিত টাকা অথবা ক্রয়কৃত জমি ফিরে পাই এবং এই প্রতারকের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।বর্তমানে আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তার অন্যান্য প্রতারণার বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব