প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিকে সেচ প্রকল্প চালু ও পর্যাপ্ত সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষক সমাবেশ
শামীম হাসান খান , গণমাধ্যম কর্মী ||
গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, প্রধান ক্যানেল সংস্কার এবং পর্যাপ্ত সার ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিশাল কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় শৈলকূপা উপজেলার শেখপাড়া বাজারে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নেতা ইমরান হোসেন ফারুক এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক মোকতারুল ইসলাম মূক্তি।সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হক লিকু, সহ-সভাপতি সুনীল সরকার ও সাখাওয়াত হোসেন, মাগুরা জেলার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান মাস্টার, মেহেরপুর জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি আবুল কাশেম, সদর থানার সভাপতি ডাঃ আমিনুর ইসলাম, শৈলকূপা উপজেলার সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলার আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা সোলায়মান পারভেজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সমাবেশে বক্তারা বলেন, জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান ও পরিপূরক পাম্পগুলোর অধিকাংশই নষ্ট হয়ে পড়ায় কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে চলতি আমন মৌসুমে পানির অভাবে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন লাখ লাখ কৃষক। গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে বিকল্প সেচ দিতে গিয়ে তাঁদের উৎপাদন খরচ যেমন বহুগুণ বেড়েছে, তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং বৈশ্বিক নানা অস্থিতিশীলতার সুযোগে ডিলারদের দুর্নীতি ও ভেজাল সারের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।এ অবস্থা নিরসনে সমাবেশ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরে প্রবীণ ও তরুণ কৃষক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।দাবিগুলো হলো:১. জিকে সেচ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ চালু রাখতে সব মৌসুমে পদ্মার পানির যৌক্তিক উচ্চতা নিশ্চিত করা।২. আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী পদ্মা-তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা।৩. জিকে ক্যানেল সংস্কারের দুর্নীতি বন্ধ করে প্রধান ও শাখা ক্যানেলগুলোর নাব্যতা ও পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা।৪. দেশীয় সার কারখানাগুলো চালু ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে সারের সার্বিক চাহিদা পূরণ করা।৫. জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সকল চুক্তি বাতিল করা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব