প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জমি লীজের টাকা আত্মসাৎ
মোঃ আঃ রাজ্জাক সরদার, সংবাদদাতা ||
নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বেলোয়া গ্রামে স্কুলের জমি ইজারা, অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধেনিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১ নম্বর সুকাশ ইউনিয়নের বেলোয়া গ্রামে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ইজারা দেওয়ার অর্থ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ও ২৮ জুন বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আবাদযোগ্য জমি এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। ইজারার আগে প্রকাশ্যে মাইকিং করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বিঘা জমি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের সাড়ে ২১ বিঘা জমি ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।অভিযোগ রয়েছে, ইজারা দেওয়ার সময় গ্রামের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যয়ের কথা বলে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২ লাখ এবং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির সাবেক দুই নেতা আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আব্দুস সোবহান সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আজমল হোসেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, প্রতিষ্ঠানের আবাদযোগ্য জমি প্রকাশ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। রসিদ অনুযায়ী পাওয়া অর্থের হিসাবও রাখা হয়েছে। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এ টাকা গ্রামের লোকজনের মধ্যেই আছে।” অন্যদিকে আজমল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের কিছু টাকা গ্রামের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হলে এতে দোষের কিছু নেই। তবে তার কাছে কোনো টাকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুই বিদ্যালয়ের জমি লিজের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা উদ্ধার না হলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ইজারার অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়টি যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান হবে বলে মনে করছেন তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব