প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ, প্রীতি গ্রুপের চার কারখানা বন্ধ
মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ, সংবাদদাতা ||
ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহতের ঘটনায় প্রীতি গ্রুপের চারটি কারখানা তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো হলোÑপ্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড ও এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড। দুর্ঘটনার পর কারখানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিশ দেখে অনেক শ্রমিক ফিরে যান। এতে শিল্পাঞ্চলটির স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি বিস্ফোরণের কারণ, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার ও সংরক্ষণ পদ্ধতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি নাÑএসব বিষয় খতিয়ে দেখবে। নির্বাপণকালে পরিচালিত প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যও তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানান, এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। দুর্ঘটনার পর তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে বিস্ফোরণটি উৎপাদন ভবনের ভেতরে নয়, কারখানা চত্বরের পার্কিং এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে ঘটায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।এর আগে রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়ার এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার পাশে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি লরিতে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাতেই উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লরির ভেতর ও আশপাশ থেকে কয়েকজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের ধাতব অংশের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এক নারী। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। নিহতদের মধ্যে মোছাম্মৎ জয়নব বেগম (৫৫), বুলবুল হোসেন (৪৫) ও নজরুল ইসলাম (৪২) রয়েছেন। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারবাহী লরি থেকে গ্যাস ব্যবহারের বিষয়টি জানা গেছে। কিছু সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। সিলিন্ডারের অতিরিক্ত চাপ, কারিগরি ত্রুটি, সংরক্ষণ বা ব্যবহারের পদ্ধতিতে ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তা স্পষ্ট হবে।আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, তাদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।তিনি বলেন, এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করার আবেদন করেনি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব