প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্মৃতির পাতায় বাবাকে যখনই মনে পড়ে দুচোখ ‎ভিজে ওঠে কান্নায় ভুলতে পারিনা বাবা
নুর নবী রাসেল , গণমাধ্যম কর্মী ||
কতই না সুন্দর একটি দিন ছিল। হাসিমাখা রোদের ঝলকানি। কিন্তু আমাদের জীবনে নেমে এল এক অন্ধকার ছায়া। হঠাৎ করে যেন মাথার উপর থেকে সরে গেল ছায়া। চারিদিকটা যেন হঠাৎ করে থমকে গেল। বাবাকে হারিয়ে ফেলবো কখন তা ভাবিনি কিন্তু সেদিন আমার বাবা আমাদের৷ সবাইকে ছেড়েদুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যায়। গত ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার আমার বাবা আমাদের সবাইকে এতিম করে চলে গেছেন না পেরার দেশে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বাবাকে হারানোর ১৩ বছর পূর্ণ হলো। বাবা নেই ভাবতে যেন দুচোখ ভিজে চোখের জ্বলে।
পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল, মাথার ওপরের ছাদ কিংবা জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি বাবা। কিন্তু জীবন থেকে সেই মানুষটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার পর যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ এক পলক বাবার কথা মনে পড়লেই থমকে যায় সময়, বুক চিরে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস আর অজান্তেই দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জল।
বাবার না থাকা মানে কেবল একজন মানুষের চলে যাওয়া নয়; বাবার না থাকা মানে জীবনের একটা আস্ত বটবৃক্ষ শেকড়সহ উপড়ে যাওয়া। শৈশবের হাত ধরে হাঁটা শেখা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি বাঁকে যার পরামর্শ ছিল সবচেয়ে বড় ভরসা, সেই মুখখানা আজ কেবলই স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি।
যে স্মৃতিগুলো বারবার আঘাত করে: অনেকেই বলেন সময় নাকি সব ক্ষত মুছে দেয়। কিন্তু একজন সন্তান যখন তার মাথার ওপর থেকে বাবার স্নেহচ্ছায়া হারায়, তখন সময়ের সঙ্গে সেই ব্যথা যেন আরও গভীর হয়। ঘরের কোণে রেখে যাওয়া পুরোনো চশমা, তার ব্যবহার করা জায়নামাজ, কিংবা চেনা কণ্ঠস্বর প্রতিটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জিনিস যেন বলে যায় তাঁর অনুপস্থিতির গল্প। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অন্য কোনো বাবাকে সন্তানের হাত ধরে চলতে দেখলে নিজের অজান্তেই বুকটা কেঁপে ওঠে। চোখ ভিজে আসে এই ভেবে "আজ আমার বাবা নেই!" শূন্যতার এই হাহাকার।
সমাজ বা চারপাশের পৃথিবী হয়তো নিজের গতিতেই চলে, কিন্তু যে সন্তানের বুক খালি হয়েছে, সে জানে প্রতি মুহূর্তে একজন অভিভাবককে কতটা মিস করা হয়। সুখের দিনে প্রথম যাঁকে ফোন করে খবরটি দেওয়ার কথা ছিল, কিংবা বিপদের দিনে যাঁর সান্ত্বনার বাণী সব কষ্ট ভুলিয়ে দিত আজ সেই মানুষটির নীরব উপস্থিতি কেবলই বুক চিরে কান্নার জোয়ার আনে।
বাবা হয়তো শারীরিকভাবে আজ আর পৃথিবীতে নেই, কিন্তু সন্তানের হৃদয়ের মানচিত্রে তাঁর আসন চির অম্লান। প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতি পদক্ষেপে আর অবচেতন মনের আকুলতায় আজও বেঁচে আছেন সেই মানুষটি, যাঁকে হারানোর বেদনা কখনো পুরনো হয় না।
আল্লাহ তাআলা আপনার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং আপনাকে ও আপনার পরিবারকে এই গভীর শোক সহ্য করার ধৈর্য ও শক্তি দান করুন। আমিন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব