প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেঘনায় বিয়ের ট্রলারডুবি: দুই দিন পর ভেসে উঠল তিন ভাই-বোনের মরদেহ, বাবা এখনো নিখোঁজ
আমজাদ হোসেন, সংবাদদাতা ||
আমজাদ হোসেন মিঠু,বিশেষ প্রতিনিধি: বিয়ের বর্ণিল আনন্দ আর উল্লাস মুহূর্তেই রূপ নিল এক করুণ শোকে। পরিবারের সঙ্গে সানাইয়ের সুরে নতুন জীবনের আয়োজনে শরিক হতে চেয়েছিল তিন ভাই-বোন। সঙ্গে ছিল বিয়ের নানা উপকরণ ও উপহার সামগ্রী। কিন্তু মেঘনা নদীর বুকে হঠাৎ নেমে আসা এক কালবৈশাখী ঝড় তছনছ করে দিল একটি পুরো পরিবারকে। দুই দিন ধরে চলা অনুসন্ধানের পর অবশেষে মেঘনার বুক থেকেই উদ্ধার করা হলো তিন নিষ্পাপ ভাই-বোনের নিথর দেহ।গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা হয়েছিল ট্রলারটি। ট্রলারে একই পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ জন যাত্রী এবং কিছু গবাদিপশু ছিল। নদী পাড়ি দেওয়ার সময় মেঘনার সোনাময়ী এলাকায় আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।দুর্ঘটনার পরপরই কাছে থাকা ‘আমান সিমেন্ট’ কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে বেশ কয়েকজন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রায়েশা বেগম নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ থাকেন একই পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন এবং তাঁর তিন সন্তান—সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও শিশু সামিন হোসেন।ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি অভিযান চালাতে থাকে। নদীর গভীরতা, প্রবল স্রোত ও উত্তাল বাতাসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও শুক্রবার ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।অবশেষে আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার সংলগ্ন আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির পাশে মেঘনা নদীতে তিন ভাই-বোনের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সজীব, সামিয়া ও সামিনের লাশ উদ্ধার করে।দুই দিন পর তিন সন্তানের মরদেহ ফিরে এলেও তাঁদের বাবা হেলাল উদ্দিনের সন্ধান এখনো মেলেনি। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।যে পরিবারটি আনন্দের বার্তা নিয়ে নদীপথে পাড়ি জমিয়েছিল, আজ সেই পরিবারের তিন সন্তানের নিথর দেহ ফিরে আসায় নদীর পাড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। এখনো স্বজনরা অপলক চোখে মেঘনার জলের দিকে তাকিয়ে আছেন—যদি কোনো অলৌকিকতায় হেলাল উদ্দিনকেও জীবিত বা নিথর অবস্থায় ফিরিয়ে দেয় নদী।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ ও মেঘনার আকস্মিক বিপর্যয় আবারো বুঝিয়ে দিল—নদীর সাথে উপকূলীয় মানুষের জীবন যতটাই বাঁধা থাকুক না কেন, তার ভয়াল রূপের কাছে মানুষের আনন্দ আয়োজন নিমেষেই ধুলোয় মিশে যায়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব