প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জোছনাময় রাতে বিদায়-বরণে মুখর মুরারীচাঁদ কলেজ, ছাত্রী হোস্টেল-২
শহীদুল ইসলাম ||
২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬সিলেট প্রতিনিধি:চেনা আঙিনা, প্রিয় মুখ আর অসংখ্য স্মৃতিকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে পা রাখার বেদনা; অন্যদিকে নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিচয় আর অজানা ভবিষ্যতের হাতছানি এমন আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুরারীচাঁদ কলেজ, ছাত্রী হোস্টেল-২-এর মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্রীদের বিদায় ও অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন ছাত্রীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্ণিমার জোছনামাখা মনোরম পরিবেশে হোস্টেল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে একদিকে ছিল বিদায়ের অশ্রুসিক্ত আবেগ, অন্যদিকে নবীনদের চোখে ছিল নতুন স্বপ্নের দীপ্তি। যেন পূর্ণিমার আলোয় পুরোনো স্মৃতির অধ্যায় শেষ হয়ে নতুন এক পথচলার সূচনা হলো।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুরারীচাঁদ কলেজ ছাত্রী হোস্টেল-২-এর হোস্টেল সুপার সাহানাজ বেগম।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুরারীচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ তোফায়েল আহম্মদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. প্রফেসর জসিম উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সম্মানিত সেক্রেটারি ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ, ছাত্র হোস্টেল ৩য় ব্লকের তত্ত্বাবধায়ক জামাল উদ্দিন, সহকারী হোস্টেল সুপার জোস্না বেগম এবং সহকারী অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী হোস্টেল সুপার জোস্না বেগম। তাঁর বক্তব্যে নবীনদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিদায়ী ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা ও কল্যাণ কামনা করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ তোফায়েল আহমদ বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে এখন তাদের অচেনা পথের যাত্রী হতে হবে। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ ও নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নিজেদের আরও শাণিত করতে হবে। ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ধারণ করে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান তিনি।নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ বলেন, হোস্টেল জীবন হয়তো সবসময় বাড়ির মতো মসৃণ হবে না। তবে শিক্ষাজীবনের পরিপূর্ণতা অর্জনে হোস্টেল জীবনের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীনভাবে চলা, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা এসব গুণ অর্জনের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে হোস্টেল জীবন।অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবাগত শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশের সময় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশের। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হোস্টেলের দিনগুলো, সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো আনন্দ-বেদনার নানা মুহূর্ত তুলে ধরেন। অনেকের কণ্ঠে ছিল ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা, চোখে ছিল বিদায়ের অশ্রু।অন্যদিকে নবাগত শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা। সিনিয়রদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও শুভকামনা তাদের নতুন পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।পূর্ণিমার হার্ভেস্ট মুনের আলোয় সেদিনের রাতটি যেন হয়ে উঠেছিল আরও স্মরণীয়। জোছনার নরম আলো, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য আর বিদায়-বরণে মিশে থাকা হাসি-কান্না—সব মিলিয়ে ছাত্রী হোস্টেল-২-এর প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আবেগঘন স্মৃতির মঞ্চে।শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য ও নানা পরিবেশনার মাধ্যমে মাতিয়ে তোলেন অনুষ্ঠানস্থল। আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর আবেগের রেশ ছড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় মাস্টার্সের বিদায়ী ছাত্রীদের বিদায় ও অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন ছাত্রীদের বরণ অনুষ্ঠান।বিদায় মানেই শেষ নয় কখনো কখনো বিদায়ই নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সিঁড়ি। আর নবীনবরণ মানে শুধু নতুন মুখকে স্বাগত জানানো নয়, বরং নতুন স্বপ্নকে একটি পরিবারের ভালোবাসায় বরণ করে নেওয়া।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব