প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সংলাপ চায় যুক্তরাষ্ট্র
সৈয়দ উসামা , গণমাধ্যম কর্মী ||
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন নেবে না; এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশের সরকারের—এমন অবস্থান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন এখনো শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি। তবে বিষয়টি যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র অবগত রয়েছে।মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই ইস্যুর একটি সমাধান বের করবে—এটাই ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা। শেখ হাসিনার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট মতামত বা নির্দেশনা দেয়নি বলেও জানানো হয়।২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।অন্যদিকে, দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি দেশে ফেরার আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়াকে আইনি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ চেয়েছেন তিনি।আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান সাংবাদিকরা।জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারকেই নিতে হবে।এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করছে না এবং বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছে—ওয়াশিংটনের বক্তব্যে এমন অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের বার্তাবাংলাদেশ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ব্রিফিংয়ে সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল আঞ্চলিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। বড় প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা করতে চায় উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশকে কোনো একটি দেশের পক্ষ বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা যুক্তরাষ্ট্র দেখছে না। বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে—এমন বার্তা দেন তিনি।তারেক রহমান-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে স্পষ্ট হলো না সময়সূচিনিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন মার্কিন কর্মকর্তা।এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মসূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তবে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বল্প সময়ের সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল বলে জানান। ওই সময় তাদের ছবি তোলার সুযোগও হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।তবে তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নিউইয়র্কে বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।এর আগে নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনেও অংশ নেন।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের বিষয়গুলো নিউইয়র্কের ব্রিফিংয়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব