প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রূপনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ
সৈয়দ উসামা , গণমাধ্যম কর্মী ||
রাজধানীর রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নোমানের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়ের ও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগকারীদের দাবি, থানার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন ওসি নোমান। বিভিন্ন সময় মন্ত্রীসহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গতকাল রাতে রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার তথ্য স্পষ্ট না করেই থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের আটক বা থানায় নেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, থানায় নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা কথিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে বাদী ও অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত, যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তি ছাড়া কাউকে হয়রানি করা কিংবা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হলে তা গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।রূপনগর থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি থানার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে ওসি নোমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে প্রতিটি থানায় দক্ষ, পেশাদার, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব