জিএনএন প্রতিবেদক, গাংনী (মেহেরপুর):বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) তালিকাভুক্ত সংগীত শিল্পী, বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী গোলাম আম্বিয়া পদোন্নতি পেয়ে ‘গ’ শ্রেণী থেকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছেন। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কৃতি সন্তান গোলাম আম্বিয়ার এই সাফল্যে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সুধী মহলে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে নিভৃতে সংগীত চর্চা এবং বিটিভির পর্দায় নিয়মিত গান পরিবেশন করে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এই পদোন্নতির পর তাঁর অনুভূতি, সংগীত যাত্রার পেছনের গল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জিএনএন প্রতিনিধির সাথে এক দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত কথোপকথন হয়।পাঠকদের জন্য কথোপকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো—জিএনএন প্রতিনিধি: বিটিভির সংগীত শিল্পী হিসেবে ‘গ’ শ্রেণী থেকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হলেন, জিএনএন পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন। এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন?গোলাম আম্বিয়া: অনেক ধন্যবাদ। প্রথমেই জিএনএন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই আমার এই অর্জনে পাশে থাকার জন্য। অনুভূতি তো অবশ্যই দারুণ। যেকোনো শিল্পী যখন তার কাজের স্বীকৃতি পান, তখন হৃদয়ে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। এই পদোন্নতি আমার সংগীত জীবনের অন্যতম একটি বড় প্রাপ্তি।জিএনএন প্রতিনিধি: ‘গ’ শ্রেণী থেকে এক লাফে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হওয়া—এই যাত্রার পেছনের অভিজ্ঞতা বা প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছু বলুন।গোলাম আম্বিয়া: সংগীত সাধনা হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া, এর কোনো শেষ নেই। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, তা থেকেই নিয়মিত চর্চা চালিয়ে গেছি। বিটিভির অডিশন ও নিয়মকানুন মেনে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। ভুলত্রুটি শুধরে প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করেছি। আজকের এই উত্তরণ আমার দীর্ঘদিনের সাধনা ও চেষ্টারই একটি ফল।জিএনএন প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো অভিব্যক্তি বা বার্তা আছে কি?গোলাম আম্বিয়া: আমাকে ‘গ’ শ্রেণী হতে ‘খ’ শ্রেণী সংগীত শিল্পী হিসেবে উন্নীত করায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সম্মানিত বিচারকমণ্ডলীকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমার কণ্ঠ ও পরিবেশনার সঠিক মূল্যায়ন করেছেন। রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমটির প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।জিএনএন প্রতিনিধি: মেহেরপুরের মতো মফস্বল শহর থেকে জাতীয় পর্যায়ে সংগীত চর্চা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশ্যে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?গোলাম আম্বিয়া: চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে। রাজধানী থেকে দূরে থেকেও যদি কারও মাঝে একনিষ্ঠতা ও ধৈর্য থাকে, তবে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। নতুন প্রজন্মের যারা গান নিয়ে এগোতে চায়, তাদের বলব—শর্টকাট কোনো পথ নেই। সাধনা, নিয়মিত চর্চা এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই একজন শিল্পীকে প্রকৃত জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। লোভ বা তাড়াহুড়ো না করে গানের গভীরতায় প্রবেশ করতে হবে।জিএনএন প্রতিনিধি: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? শ্রোতারা আপনার কণ্ঠে নতুন কী পেতে যাচ্ছেন?গোলাম আম্বিয়া: আমি আজীবন সংগীতের সাথেই থাকতে চাই। দেশীয় গান, মাটি ও মানুষের লোকসংগীতের প্রচার-প্রসারে নিজেকে আরও বেশি নিবেদিত রাখতে চাই। বিটিভিতে নিয়মিত গান গাওয়ার পাশাপাশি কিছু মৌলিক গান করারও ইচ্ছা আছে। শ্রোতারা যেন আমার গানে শুদ্ধতা ও নতুনত্ব খুঁজে পান, সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাবো। আমার এই পথচলায় গাংনীবাসীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।জিএনএন প্রতিনিধি: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।গোলাম আম্বিয়া: আপনাকে এবং জিএনএন পরিবারকেও অনেক ধন্যবাদ।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।