রাজধানীর মিরপুরে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের চেষ্টা এবং এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি দাবি করা টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মো. নওশাদ। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মো. নওশাদ। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘মপটা ফোর’ নামে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এ ব্যবসার আয় দিয়েই তার পরিবারের ব্যয় নির্বাহ হয়।
নওশাদের অভিযোগ, মিরপুরের একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে সরাসরি এবং মুঠোফোনে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আশিক বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা এক ব্যক্তি তাকে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে এককালীন ১০ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী সময়েও নিয়মিত অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যবসায়ী নওশাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে নওশাদ অভিযোগ করেন, তাকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে প্রচার এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে থানায় অভিযোগ করানোর ঘটনাও ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও বিভিন্ন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরবর্তীতে তিনি ছাড়া পান বলে জানান।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মো. নওশাদ। একই সঙ্গে তার ব্যবসা পরিচালনায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা হুমকির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য এসেছে, তাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে নওশাদের করা অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়: ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের চেষ্টা, ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, ব্যবসায়ী ও পরিবারের ওপর চাপ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত