বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ (বিএফএল) নিরবচ্ছিন্নভাবে আয়োজনসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে ১০টি ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ আবেদনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই আবেদনে সিটি ক্লাবের এক কর্মকর্তার স্বাক্ষর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার এবং তা জাল করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সামনে আসার পর যৌথ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘরোয়া ফুটবলের বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বিএফএল নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে আয়োজনের দাবিতে কয়েকটি ক্লাবের পক্ষ থেকে বাফুফের কাছে একটি যৌথ আবেদন দেওয়া হয়। তবে ওই আবেদনে সিটি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব ও ব্যবহৃত স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি তুলেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
সিটি ক্লাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, আবেদনে থাকা স্বাক্ষরটি তার নিজের নয়। ক্লাবের অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্মতি ছাড়াই স্বাক্ষরটি ব্যবহার করা হয়ে থাকলে বিষয়টি নিছক ভুল বা প্রশাসনিক অসাবধানতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারণ, কোনো সাংগঠনিক আবেদনে কোনো ক্লাবের নাম, পরিচয় কিংবা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন থাকা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেখানে অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার বা স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুতর বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে বিএফএলে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন খেলা আয়োজনের দাবির পক্ষে ক্লাবগুলোর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে যৌথ আবেদনে কারা প্রকৃতপক্ষে সম্মতি দিয়েছেন এবং কারা দেননি—তা পরিষ্কারভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবলসংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে কোনো ক্লাবের অনুমোদন ছাড়া তাদের কর্মকর্তার স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, সেটি কীভাবে বাফুফের কাছে জমা পড়ল—এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আবেদন গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর অনুমোদন ও স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে।
তবে স্বাক্ষরটি জাল কি না এবং কে বা কারা এটি ব্যবহার করেছে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে মূল আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরের নমুনা, ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং বাফুফেতে জমা দেওয়া নথি যাচাই করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
ফুটবলসংশ্লিষ্টদের মতে, ঘরোয়া ফুটবলের ধারাবাহিকতা ও প্রতিযোগিতার স্বার্থে ক্লাবগুলোর যৌক্তিক দাবি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই দাবি আদায়ের প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ক্লাবের অনুমোদন ছাড়া তার নাম বা কর্মকর্তার স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা পুরো উদ্যোগকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
এখন মূল প্রশ্ন—সিটি ক্লাবের অনুমোদন ছাড়া যদি তাদের কর্মকর্তার স্বাক্ষর যৌথ আবেদনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে স্বাক্ষরটি কে ব্যবহার করেছেন, কীভাবে সেটি আবেদনে যুক্ত হলো এবং বাফুফের কাছে তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে উপস্থাপিত হলো?
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে বাফুফের কাছে জমা দেওয়া এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথির সত্যতা যাচাই ও গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত