নাটক ও নাট্যকার, কবি ও কবিতা নিয়ে শুচি পাঠচক্রে সাহিত্য-আড্ডা
নাটক ও নাট্যকার, কবি ও কবিতার শিল্পরূপ, নান্দনিকতা, সমাজবাস্তবতা এবং সাহিত্যিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সাহিত্য-আড্ডা।শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগার এবং দৈনিক যুগান্তরের যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, টঙ্গী শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাহিত্য, নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।যুগান্তর স্বজন সমাবেশ টঙ্গী শাখার সভাপতি অলিদুর রহমান অলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শাহজাহান শোভন।আলোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ নাট্য পরিচালক মোজাফফর হোসেন মোহর এবং কবি ও নাট্যকার আব্দুল মান্নান।আলোচনায় বক্তারা বলেন, নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয় মানুষের জীবন, সমাজ, সময় ও বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম। একইভাবে কবিতাও মানুষের অনুভূতি, স্বপ্ন, বেদনা, প্রেম, প্রতিবাদ ও জীবনবোধকে শব্দের নান্দনিকতায় ধারণ করে। সময়ের সঙ্গে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।প্রবীণ নাট্য পরিচালক মোজাফফর হোসেন মোহর বলেন, নাটক মানুষের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। একটি ভালো নাটক দর্শককে শুধু বিনোদিত করে না, তাকে ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং সমাজ ও সময়কে নতুন করে দেখতে সাহায্য করে। নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।কবি ও নাট্যকার আব্দুল মান্নান বলেন, কবিতা মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির শিল্পিত প্রকাশ। আর নাটক সেই অনুভূতিকে জীবন্ত চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরে। সাহিত্যচর্চা মানুষের মনকে আলোকিত করে এবং সমাজকে মানবিক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি আতিক শাহরিয়ার, মারুফ খান, অমল কৃষ্ণ রায়, রাকিব হোসেন সাদ্দাম, তানভীর হাসান, মারুফ হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।সাহিত্য-আড্ডায় কবিতা পাঠ, নাটক ও নাট্যকার নিয়ে পর্যালোচনা এবং সমকালীন সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্য-আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়া ও সৃজনশীল চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাঠাভ্যাস ও সাহিত্যচর্চাকে মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ করে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।