রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের তালাব ক্যাম্পে মরদেহ গোসল করানোর ঘর নির্মাণ ও সেখানে পানির পাম্প বসানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার পর ক্যাম্প এলাকায় শুরু হওয়া বিরোধ একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনায় রূপ নেয়। এ সময় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, ক্যাম্পে একটি মরদেহের গোসলখানা নির্মাণের কাজ চলছিল। সেখানে পানির পাম্প বসানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সেই বিরোধ দুই পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওসি হাসান বাসিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি মূলত স্থানীয়দের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা দুই পক্ষের সংঘাতে রূপ নেয়।
গুলি ও ককটেলের শব্দে আতঙ্ক
ঘটনার সময় ক্যাম্প এলাকায় কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সূত্রে গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণের কথা জানা গেছে। ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পড়ে থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে এক পক্ষের সঙ্গে অপর পক্ষের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
দুই পক্ষের লোকজনের উপস্থিতির দাবি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে দুই পক্ষের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়েছিল। তবে সংঘর্ষে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
এ ঘটনায় কোনো পক্ষের অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওসি হাসান বাসির জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে
ঘটনার পর তালাব ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘর্ষ যাতে না ছড়ায়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশের কঠোর নজরদারি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যেন সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং গুলি বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার বিষয়গুলো যাচাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মরদেহের গোসলখানার মতো একটি জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

মতামত