খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে ২১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের ১০টি টিম এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার হাফিজনগর বাজার এলাকায় খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরদার স্যানিটারিকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে ৭ হাজার টাকা এবং সাউথ জোন প্রাইভেট হাসপাতালকে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই মহানগরীর আউটার বাইপাস রোড এলাকায় সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাসকিয়া ফার্মেসিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে শেখপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তৌহিদ বেকারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই ও জিয়ানগর বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জুনায়েদ স্টোরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ১ হাজার টাকা, ভাই ভাই মাংসের দোকানকে ৫ হাজার টাকা, আফাংগির স্টোরকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অপরাধে ১ হাজার টাকা এবং তাসিন হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নড়াইল সদর উপজেলার রূপগঞ্জ বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স আনন্দ মুখার্জি স্টোর ও মেসার্স বিসমিল্লাহ স্টোরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় পৃথকভাবে ১ হাজার টাকা করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যশোর সদর উপজেলার ধর্মতলা বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ইউনুস স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মাগুরা সদর উপজেলার ভয়না কাঁচাবাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. সজল আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স আল্লাহর দান চিকেন হাউজকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ২ হাজার টাকা এবং মেসার্স মনির এন্টারপ্রাইজকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স হামিদুল ট্রেডার্সকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করায় ৫ হাজার টাকা, মেসার্স জিকু মেডিকেল হলকে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স ভাই ভাই হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মিলবাজার ও ফুড অফিস মোড় এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা পোল্ট্রিকে ৫০০ টাকা, জাহিদ মুরগিকে ১ হাজার টাকা এবং বিসমিল্লাহ পোল্ট্রি হাউজকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড় বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে সুজন স্টোরকে ৫ হাজার টাকা এবং বাবুর মুরগির দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সর্বমোট ২১টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত