জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

কেই খোঁজ রাখেনি রুবিনার পরিবারে।

বিয়ের পিরিতে বসা হয়নি পঙ্গু ভূমিহীন রুবিনার।

বিয়ের পিরিতে বসা হয়নি পঙ্গু ভূমিহীন রুবিনার।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পঙ্গু ও ভূমিহীন রুবিনা খাতুন। কয়েক বছর আগে পায়ের টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে ইনফেকশনের কারণে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকেই পঙ্গুত্বের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনেও তার খোঁজ নেয়নি পরিবার-পরিজন কিংবা স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

রুবিনা খাতুন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৬ নম্বর টেপামধুপুর ইউনিয়নের চর গনাই গ্রামের দিনমজুর মকবুল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পায়ের টিউমারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জটিলতা দেখা দেয় রুবিনার। একপর্যায়ে পায়ে ইনফেকশন হলে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে চলাফেরায় সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তিনি।

রুবিনার বাবা মকবুল হোসেন পেশায় একজন দিনমজুর। একসময় চর গনাই এলাকায় তাদের কিছু সহায়-সম্পত্তি ছিল। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে ৬ নম্বর টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা এলাকায় এক নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের পাশে খাস জায়গায় একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন।

বয়সের ভারে এখন আগের মতো কাজ করতে পারেন না মকবুল হোসেন। পঙ্গু মেয়ে রুবিনা ও স্ত্রীকে নিয়ে অত্যন্ত অস্বচ্ছল অবস্থায় দিন কাটছে তার। এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারাও আলাদাভাবে সংসার করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করলেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা, খাদ্য, বাসস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুবিনা এখনো অবিবাহিত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিবারটি উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে রুবিনার উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারটির জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা পরিবারটির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করবেন। একই সঙ্গে রুবিনার চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন তারা।

এখন অসহায় রুবিনা খাতুন ও তার পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—মানবিক দৃষ্টিতে কেউ তাদের পাশে দাঁড়াবেন, ফিরে আসবে তাদের জীবনে স্বস্তি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিয়ের পিরিতে বসা হয়নি পঙ্গু ভূমিহীন রুবিনার।

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পঙ্গু ও ভূমিহীন রুবিনা খাতুন। কয়েক বছর আগে পায়ের টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে ইনফেকশনের কারণে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকেই পঙ্গুত্বের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনেও তার খোঁজ নেয়নি পরিবার-পরিজন কিংবা স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।রুবিনা খাতুন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৬ নম্বর টেপামধুপুর ইউনিয়নের চর গনাই গ্রামের দিনমজুর মকবুল হোসেনের মেয়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পায়ের টিউমারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জটিলতা দেখা দেয় রুবিনার। একপর্যায়ে পায়ে ইনফেকশন হলে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে চলাফেরায় সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তিনি।রুবিনার বাবা মকবুল হোসেন পেশায় একজন দিনমজুর। একসময় চর গনাই এলাকায় তাদের কিছু সহায়-সম্পত্তি ছিল। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে ৬ নম্বর টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা এলাকায় এক নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের পাশে খাস জায়গায় একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন।বয়সের ভারে এখন আগের মতো কাজ করতে পারেন না মকবুল হোসেন। পঙ্গু মেয়ে রুবিনা ও স্ত্রীকে নিয়ে অত্যন্ত অস্বচ্ছল অবস্থায় দিন কাটছে তার। এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারাও আলাদাভাবে সংসার করছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করলেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা, খাদ্য, বাসস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুবিনা এখনো অবিবাহিত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিবারটি উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে রুবিনার উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারটির জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা পরিবারটির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করবেন। একই সঙ্গে রুবিনার চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন তারা।এখন অসহায় রুবিনা খাতুন ও তার পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—মানবিক দৃষ্টিতে কেউ তাদের পাশে দাঁড়াবেন, ফিরে আসবে তাদের জীবনে স্বস্তি।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
বিয়ের পিরিতে বসা হয়নি পঙ্গু ভূমিহীন রুবিনার।
0:00 0:00
1.0x