১৯৪৮সালের কথা বরিশাল সদর উপজেলা চরমোনাই ইউনিয়ন চরখানম গ্রাম,দুই পরিবারের লড়াই,কালাবাদর নদীর পারের চর দখল,যুদ্ধ যখন শুরু মরহুম আঃ হাসেম খান সকালের পান্তা খেয়ে শুয়ে আছে চার পায়ার উপর, এমন সময় কেউ একজন ডেকে বল্লো দাদু ভাই চরে ভিসন মারামরি শুরু হয়েছে,আমার মন সায় দিলোনা,আমি যেতে চাইলামনা না ওরা আমাকে জোর করেই নিয়ে গেলো,এ পাশে ও পাশে শত শত লোক কারও হাতে দা,কারও হাতেনবর্সা কারও হাতে টেডা,একজন আর একজনার রক্ত ঝরাতে,একজন আর একজনকে খুন করতে মরিয়া,আমি সামনে এগিয়ে গেলাম,বিরত্ব প্রমান করতে- হাতে দা নিয়ে সামনে এগিয়ে চল্লাম, হঠাৎ একটি টাডার আঘাত আমার শরীরের সামনে থেকে পিছনে ভেদ করলো,কিছু বুঝে উঠতে পারলামনা,যারা আঘাত করলো তারাও আমার স্বজন,আমি অনুনয় বিনয় করলাম, কোন কাজ হলোনা,আমাকে টেনে হিচরে নৌকায় তুলে নিলো,কোথায় নিচ্ছে জানিনা,সময় গরাতে গড়াতে সন্ধা হলো, যখন আমার পায়ে লোহার নঙর বাধঁতে ছিলো, তখন আমার অবলা স্ত্রী আর পাচঁটি মেয়ের চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠলো,বুঝতে পারলাম পৃথিবীর সফর শেষ ওরা আমাকে বাচঁতে দিবেনা,আমি ওদের কোন ক্ষতি করিনি তবুও ওরা আমাকে মেরেই ফেলবে! জিবনের কত সময় মানুষের কত উপকার করলাম, আজ আমার এই সময় কেউ আমার প্রতি একটু দয়া দেখাবেনা? একটু পানি চাইলাম কে যেনো বল্লো একটু পরে তোমার পানির অভাব হবেনা।
তিন দিন পর মরহুম আঃ হাসেম খানের গলিত লাশ কালাবদর নদী থেকে উদ্ধার হয়েছিলো
লেখক ঃ শাহ আলম

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত