জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

সংবাদকর্মী কি আজ নিরাপদ?

সংবাদকর্মী কি আজ নিরাপদ?
এআই নির্মিত

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম এবং এর নেপথ্যের কারিগর গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের দর্পণ ও জাতির বিবেক। রাষ্ট্র ও সমাজের যেকোনো সংকটে, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশে যারা নিজেদের পেশাগত দায়িত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন, তারা মূলত একটি সচেতন জাতি গঠনের অগ্রপথিক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রায়শই নানা ধরনের বাধা, হুমকি এবং সহিংসতার শিকার হন। সংবাদকর্মীদের কণ্ঠরোধ করার এই অপচেষ্টা কেবল তাদের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি পুরো জাতির মৌলিক অধিকার ও মুক্তচিন্তার ওপর এক গভীর আঘাত।

​একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম ছাড়া কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের যেভাবে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, তা মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়। যখন কোনো সংবাদকর্মীকে সত্য প্রকাশের দায়ে থামিয়ে দেওয়া হয়, তখন সমাজ তার সঠিক চিত্র দেখার অধিকার হারায়। এতে করে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয় এবং সমাজে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হলে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলই নড়বড়ে হয়ে যায়।

​সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা তাই কেবল কোনো পেশাজীবী সংগঠনের দাবি নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। রাষ্ট্রকে অবশ্যই এমন একটি আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে, যেন সাংবাদিকরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই সত্য তুলে ধরতে পারেন। গণমাধ্যমকে পরাধীন বা নিয়ন্ত্রিত রাখার মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে এর স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে হবে। কারণ একটি জাতির অগ্রযাত্রা, সাম্য এবং প্রগতি নির্ভর করে তার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্ভীক সাংবাদিকতার ওপর।


সম্পাদকীয় 

কায়েস মাহমুদ - সিটিজেন জার্নাল 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংবাদকর্মী কি আজ নিরাপদ?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম এবং এর নেপথ্যের কারিগর গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের দর্পণ ও জাতির বিবেক। রাষ্ট্র ও সমাজের যেকোনো সংকটে, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশে যারা নিজেদের পেশাগত দায়িত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন, তারা মূলত একটি সচেতন জাতি গঠনের অগ্রপথিক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রায়শই নানা ধরনের বাধা, হুমকি এবং সহিংসতার শিকার হন। সংবাদকর্মীদের কণ্ঠরোধ করার এই অপচেষ্টা কেবল তাদের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি পুরো জাতির মৌলিক অধিকার ও মুক্তচিন্তার ওপর এক গভীর আঘাত।​একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম ছাড়া কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের যেভাবে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, তা মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়। যখন কোনো সংবাদকর্মীকে সত্য প্রকাশের দায়ে থামিয়ে দেওয়া হয়, তখন সমাজ তার সঠিক চিত্র দেখার অধিকার হারায়। এতে করে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয় এবং সমাজে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হলে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলই নড়বড়ে হয়ে যায়। ​সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা তাই কেবল কোনো পেশাজীবী সংগঠনের দাবি নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। রাষ্ট্রকে অবশ্যই এমন একটি আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে, যেন সাংবাদিকরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই সত্য তুলে ধরতে পারেন। গণমাধ্যমকে পরাধীন বা নিয়ন্ত্রিত রাখার মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে এর স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে হবে। কারণ একটি জাতির অগ্রযাত্রা, সাম্য এবং প্রগতি নির্ভর করে তার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্ভীক সাংবাদিকতার ওপর।সম্পাদকীয় কায়েস মাহমুদ - সিটিজেন জার্নাল 

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সংবাদকর্মী কি আজ নিরাপদ?
0:00 0:00
1.0x