জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি

 আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি
সংরক্ষিত

একটি নাম, একটি জার্সি, আর কোটি মানুষের আবেগ—লিওনেল মেসি। ফুটবল মাঠে যার বাঁ পায়ের জাদুতে বদলে গেছে ম্যাচের গল্প, বদলে গেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাস। সেই মেসিই এবার জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার পথচলা শেষের দিকে।


সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী মেসি ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় শেষ হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। সিদ্ধান্তটি যে সহজ ছিল না, মেসির কথাতেই তার আভাস মেলে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রতিবারের মতো এবারও নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—তবু সময়ের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পালা এসেছে।


আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ। গোল ১২৫টি। সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, নীল-সাদা জার্সির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কতটা গভীর। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা—দুই রেকর্ডই এখন তার দখলে।

তবে মেসির গল্প শুধু পরিসংখ্যানের নয়। বরং এটি অপেক্ষার, ব্যর্থতার, সমালোচনার আর শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণের গল্প।

একসময় জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক ফাইনালে হেরে হতাশ হতে হয়েছে তাকে। এসেছে অবসরের ঘোষণাও। কিন্তু ফিরে এসেছেন বারবার। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পান মেসি।

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা হাতে নিয়ে পূর্ণ করেন অসম্পূর্ণ এক গল্প।

দুই বছর পর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয় আরেকটি আন্তর্জাতিক শিরোপা।

কিন্তু শেষটা যেন আরও একটু অন্যরকম হতে পারত। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নিয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর যে স্বপ্ন ছিল, তা আর পূরণ হয়নি। ওই ম্যাচটিই জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক। এরপর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। এই সময়ে ব্যক্তিগত অর্জনেও অন্যদের অনেক পেছনে ফেলেছেন তিনি। জিতেছেন রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, দুইবার কোপা আমেরিকা এবং ২০০৮ অলিম্পিকের সোনাও উঠেছে তার হাতে।

ফুটবল হয়তো একদিন মেসিকে ছাড়াই চলবে। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতেও দেখা যাবে নতুন কোনো তারকাকে। কিন্তু মেসিকে ঘিরে যে আবেগ, যে স্মৃতি—তা মুছে ফেলার নয়।


কারণ মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন। আর্জেন্টিনার জন্য তিনি ছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কোটি সমর্থকের স্বপ্নপূরণের নাম। তাই তার বিদায় মানে শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়; শেষ হতে চলেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।

নীল-সাদা জার্সিতে আর হয়তো দেখা যাবে না সেই বাঁ পায়ের জাদু। থাকবে শুধু স্মৃতি—গোলের, ট্রফির, চোখের জলের, আর এক কিংবদন্তির।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
একটি নাম, একটি জার্সি, আর কোটি মানুষের আবেগ—লিওনেল মেসি। ফুটবল মাঠে যার বাঁ পায়ের জাদুতে বদলে গেছে ম্যাচের গল্প, বদলে গেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাস। সেই মেসিই এবার জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার পথচলা শেষের দিকে।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী মেসি ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় শেষ হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। সিদ্ধান্তটি যে সহজ ছিল না, মেসির কথাতেই তার আভাস মেলে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রতিবারের মতো এবারও নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—তবু সময়ের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পালা এসেছে।আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ। গোল ১২৫টি। সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, নীল-সাদা জার্সির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কতটা গভীর। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা—দুই রেকর্ডই এখন তার দখলে।তবে মেসির গল্প শুধু পরিসংখ্যানের নয়। বরং এটি অপেক্ষার, ব্যর্থতার, সমালোচনার আর শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণের গল্প।একসময় জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক ফাইনালে হেরে হতাশ হতে হয়েছে তাকে। এসেছে অবসরের ঘোষণাও। কিন্তু ফিরে এসেছেন বারবার। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পান মেসি।এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা হাতে নিয়ে পূর্ণ করেন অসম্পূর্ণ এক গল্প।দুই বছর পর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয় আরেকটি আন্তর্জাতিক শিরোপা।কিন্তু শেষটা যেন আরও একটু অন্যরকম হতে পারত। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নিয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর যে স্বপ্ন ছিল, তা আর পূরণ হয়নি। ওই ম্যাচটিই জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক। এরপর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। এই সময়ে ব্যক্তিগত অর্জনেও অন্যদের অনেক পেছনে ফেলেছেন তিনি। জিতেছেন রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, দুইবার কোপা আমেরিকা এবং ২০০৮ অলিম্পিকের সোনাও উঠেছে তার হাতে।ফুটবল হয়তো একদিন মেসিকে ছাড়াই চলবে। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতেও দেখা যাবে নতুন কোনো তারকাকে। কিন্তু মেসিকে ঘিরে যে আবেগ, যে স্মৃতি—তা মুছে ফেলার নয়।কারণ মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন। আর্জেন্টিনার জন্য তিনি ছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কোটি সমর্থকের স্বপ্নপূরণের নাম। তাই তার বিদায় মানে শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়; শেষ হতে চলেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।নীল-সাদা জার্সিতে আর হয়তো দেখা যাবে না সেই বাঁ পায়ের জাদু। থাকবে শুধু স্মৃতি—গোলের, ট্রফির, চোখের জলের, আর এক কিংবদন্তির।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি
0:00 0:00
1.0x