জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস -২০২৬

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস -২০২৬

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬

নিরাপদ ওষুধ, নিরাপদ চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তাই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার-

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘অসংক্রামক ব্যাধির নিরাপদ চিকিৎসা’।

বর্তমান সময়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে অনেক রোগীকেই দীর্ঘদিন এমনকি সারাজীবন একাধিক ওষুধ সেবন করতে হয়। ফলে ভুল ওষুধ, ভুল মাত্রা, ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

মানসম্মত ওষুধের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সম্প্রতি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২২টি; এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ২৫৮টি। সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড অনুসরণ করে সিংহভাগ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে।

এই পরিসংখ্যান একই সঙ্গে আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক এবং সতর্কবার্তাও বহন করে। কারণ ওষুধ কোনো সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়; এটি সরাসরি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তাই কাঁচামাল বা API সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন, মান পরীক্ষা, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং রোগীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি প্রয়োজন।

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

রোগী নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। প্রয়োজন ছাড়া, ভুল মাত্রায় অথবা অসম্পূর্ণ কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে Antimicrobial Resistance (AMR) বা জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এ কারণে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

রোগীদের প্রতিও আহ্বান—নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না, অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করবেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা চিকিৎসা বন্ধ করবেন না।

ফার্মাকোভিজিল্যান্স বাড়াতে হবে

কোনো ওষুধ বাজারজাত হওয়ার পর রোগীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত, নথিভুক্ত ও রিপোর্ট করা প্রয়োজন। এজন্য Pharmacovigilance বা ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্স, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং রোগীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ওষুধের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তথ্যও ভবিষ্যতে অসংখ্য রোগীর জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্টের গুরুত্ব

রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্টের কার্যকর সম্পৃক্ততা সময়ের দাবি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া, সঠিক মাত্রা, সেবনের সময় এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনি ও লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তাই চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টের সমন্বিত সেবা রোগীর নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত করতে পারে।

নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনায় ফার্মেসির দায়িত্ব

দেশে বিপুলসংখ্যক ফার্মেসি পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বৈধ লাইসেন্স, যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পৃথকীকরণ এবং প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিক্রির বিষয়গুলো কঠোরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীল ওষুধ সঠিক পরিবেশে সংরক্ষণ না করলে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। তাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবেশক ও খুচরা ফার্মেসি—প্রতিটি পর্যায়ে Good Distribution Practice (GDP) ও যথাযথ সংরক্ষণনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন

রোগী নিরাপত্তা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। চিকিৎসককে সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রেসক্রিপশন দিতে হবে, ফার্মাসিস্টকে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারে পরামর্শ দিতে হবে, ওষুধ কোম্পানিকে মানসম্মত ও নিরাপদ ওষুধ উৎপাদন করতে হবে, ফার্মেসিকে আইন ও নীতিমালা মেনে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে এবং রোগীকেও চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

অন্যদিকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিদর্শন, মান পরীক্ষা, বাজার মনিটরিং এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আমাদের অঙ্গীকার

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা—

মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত হোক,

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ হোক,

ফার্মাকোভিজিল্যান্স কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হোক,

ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্টের সম্পৃক্ততা বাড়ুক,

এবং প্রতিটি রোগী পাক নিরাপদ ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা।

মনে রাখতে হবে—

“নিরাপদ ওষুধ শুধু একটি পণ্য নয়—এটি একজন রোগীর জীবন রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার।”

তাই রোগীর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা, মানহীনতা কিংবা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকার, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধশিল্প, ফার্মেসি মালিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা।

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সকলের প্রতি আহ্বান—

সচেতন হোন, প্রেসক্রিপশন মেনে ওষুধ সেবন করুন এবং নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।

মোঃ আমজাদ হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি, জনতার অনলাইন প্রেসক্লাব

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস -২০২৬

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬নিরাপদ ওষুধ, নিরাপদ চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তাই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার-আজ ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘অসংক্রামক ব্যাধির নিরাপদ চিকিৎসা’।বর্তমান সময়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে অনেক রোগীকেই দীর্ঘদিন এমনকি সারাজীবন একাধিক ওষুধ সেবন করতে হয়। ফলে ভুল ওষুধ, ভুল মাত্রা, ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।মানসম্মত ওষুধের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণসম্প্রতি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২২টি; এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ২৫৮টি। সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড অনুসরণ করে সিংহভাগ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে।এই পরিসংখ্যান একই সঙ্গে আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক এবং সতর্কবার্তাও বহন করে। কারণ ওষুধ কোনো সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়; এটি সরাসরি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।তাই কাঁচামাল বা API সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন, মান পরীক্ষা, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং রোগীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি প্রয়োজন।প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়রোগী নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। প্রয়োজন ছাড়া, ভুল মাত্রায় অথবা অসম্পূর্ণ কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে Antimicrobial Resistance (AMR) বা জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।এ কারণে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।রোগীদের প্রতিও আহ্বান—নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না, অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করবেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা চিকিৎসা বন্ধ করবেন না।ফার্মাকোভিজিল্যান্স বাড়াতে হবেকোনো ওষুধ বাজারজাত হওয়ার পর রোগীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত, নথিভুক্ত ও রিপোর্ট করা প্রয়োজন। এজন্য Pharmacovigilance বা ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্স, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং রোগীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ওষুধের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তথ্যও ভবিষ্যতে অসংখ্য রোগীর জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্টের গুরুত্বরোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্টের কার্যকর সম্পৃক্ততা সময়ের দাবি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া, সঠিক মাত্রা, সেবনের সময় এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কিডনি ও লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তাই চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টের সমন্বিত সেবা রোগীর নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত করতে পারে।নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনায় ফার্মেসির দায়িত্বদেশে বিপুলসংখ্যক ফার্মেসি পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বৈধ লাইসেন্স, যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পৃথকীকরণ এবং প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিক্রির বিষয়গুলো কঠোরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।বিশেষ করে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীল ওষুধ সঠিক পরিবেশে সংরক্ষণ না করলে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। তাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবেশক ও খুচরা ফার্মেসি—প্রতিটি পর্যায়ে Good Distribution Practice (GDP) ও যথাযথ সংরক্ষণনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজনরোগী নিরাপত্তা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। চিকিৎসককে সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রেসক্রিপশন দিতে হবে, ফার্মাসিস্টকে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারে পরামর্শ দিতে হবে, ওষুধ কোম্পানিকে মানসম্মত ও নিরাপদ ওষুধ উৎপাদন করতে হবে, ফার্মেসিকে আইন ও নীতিমালা মেনে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে এবং রোগীকেও চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।অন্যদিকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিদর্শন, মান পরীক্ষা, বাজার মনিটরিং এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।আমাদের অঙ্গীকারবিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা—মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত হোক,প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ হোক,ফার্মাকোভিজিল্যান্স কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হোক,ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্টের সম্পৃক্ততা বাড়ুক,এবং প্রতিটি রোগী পাক নিরাপদ ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা।মনে রাখতে হবে—“নিরাপদ ওষুধ শুধু একটি পণ্য নয়—এটি একজন রোগীর জীবন রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার।”তাই রোগীর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা, মানহীনতা কিংবা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকার, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধশিল্প, ফার্মেসি মালিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা।বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সকলের প্রতি আহ্বান—সচেতন হোন, প্রেসক্রিপশন মেনে ওষুধ সেবন করুন এবং নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।মোঃ আমজাদ হোসেনবিশেষ প্রতিনিধি, জনতার অনলাইন প্রেসক্লাব

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস -২০২৬
0:00 0:00
1.0x