জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

শান্তিগঞ্জে খাস জমি দখল করে হিন্দুদের শ্মশান ও একমাত্র রাস্তা বন্ধের অভিযোগ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

টাকার বিনিময়ে খাস জমি বিক্রি শান্তিগঞ্জে হিন্দুদের শ্মশান ও একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দখলদারদের তাণ্ডব

টাকার বিনিময়ে খাস জমি বিক্রি শান্তিগঞ্জে হিন্দুদের শ্মশান ও একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দখলদারদের তাণ্ডব
সুনামগঞ্জে টাকা নিয়ে সরকারি খাস জমি দখল: বিপন্ন হিন্দুদের শ্মশান রাস্তা ও ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নধীন ৬নং ওয়ার্ডের আমদাবাজ গ্রামে সরকারি খাস জমি জবরদখল করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের আমলের শ্মশান, গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি অসাধু চক্র আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি দখল ও ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে আমদাবাজ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অনুযায়ী ওই সরকারি জমিতে মৃতদেহ সৎকার বা শ্মশানকার্য পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় নূর ইসলাম ও মজিদ গংয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র জোরপূর্বক শ্মশানের জায়গা দখল করে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটিও দখল করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

​শ্মশানের জায়গা ও রাস্তা দখল নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত নূর ইসলাম, মজিদ ও তাদের সহযোগীরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, তোমরা কোথায় শ্মশান দিবে সেটা তোমরা জানো, এখন থেকে আমরা এর দখল নিয়েছি, এটা আমাদের জায়গা। এলাকায় হিন্দুরা সংখ্যায় কম হওয়ায় এবং প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

​অভিযোগ রয়েছে, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নূর ইসলাম তার ৮ জন আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই খাস জায়গা দখল ও ঘরবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

​এই জায়গাটি এলাকার হাসারচর আমদাবাদ গ্রামের পূর্বপুরুষের আমল থেকে চলে আসা যুবকদের ফুটবল খেলার মাঠ, ঘোড়ার দৌড় ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের ঐতিহ্যবাহী ফাঁকা জায়গা এই চক্রের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকারি এই খাস মাঠটি এলাকার কৃষকদের ধান শুকানো, মাড়াই ও আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। দখলদারেরা মাটি কেটে জমি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ধান চাষ এবং বসতভিটা তৈরি করে ভোগদখল করে আসছেন। এমনকি বসতভিটার জন্য একই সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে ভিটাও তৈরি করা হয়েছে।

​সরকারি খাস জায়গা জবরদখলকারী নূর ইসলাম ও মজিদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত জরুরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শ্মশান ঘাট, গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

​এদিকে, এসব অনিয়ম ও দখলের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন এবং সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে এড়িয়ে যান।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টাকার বিনিময়ে খাস জমি বিক্রি শান্তিগঞ্জে হিন্দুদের শ্মশান ও একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দখলদারদের তাণ্ডব

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নধীন ৬নং ওয়ার্ডের আমদাবাজ গ্রামে সরকারি খাস জমি জবরদখল করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের আমলের শ্মশান, গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি অসাধু চক্র আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি দখল ও ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে আমদাবাজ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অনুযায়ী ওই সরকারি জমিতে মৃতদেহ সৎকার বা শ্মশানকার্য পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় নূর ইসলাম ও মজিদ গংয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র জোরপূর্বক শ্মশানের জায়গা দখল করে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটিও দখল করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।​শ্মশানের জায়গা ও রাস্তা দখল নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত নূর ইসলাম, মজিদ ও তাদের সহযোগীরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, তোমরা কোথায় শ্মশান দিবে সেটা তোমরা জানো, এখন থেকে আমরা এর দখল নিয়েছি, এটা আমাদের জায়গা। এলাকায় হিন্দুরা সংখ্যায় কম হওয়ায় এবং প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।​অভিযোগ রয়েছে, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নূর ইসলাম তার ৮ জন আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই খাস জায়গা দখল ও ঘরবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন।​এই জায়গাটি এলাকার হাসারচর আমদাবাদ গ্রামের পূর্বপুরুষের আমল থেকে চলে আসা যুবকদের ফুটবল খেলার মাঠ, ঘোড়ার দৌড় ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের ঐতিহ্যবাহী ফাঁকা জায়গা এই চক্রের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকারি এই খাস মাঠটি এলাকার কৃষকদের ধান শুকানো, মাড়াই ও আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। দখলদারেরা মাটি কেটে জমি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ধান চাষ এবং বসতভিটা তৈরি করে ভোগদখল করে আসছেন। এমনকি বসতভিটার জন্য একই সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে ভিটাও তৈরি করা হয়েছে।​সরকারি খাস জায়গা জবরদখলকারী নূর ইসলাম ও মজিদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত জরুরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শ্মশান ঘাট, গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।​এদিকে, এসব অনিয়ম ও দখলের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন এবং সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে এড়িয়ে যান।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
টাকার বিনিময়ে খাস জমি বিক্রি শান্তিগঞ্জে হিন্দুদের শ্মশান ও একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দখলদারদের তাণ্ডব
0:00 0:00
1.0x