নিজস্ব প্রতিবেদক : সাইফুল ইসলাম
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা বিল। বর্ষা এলেই যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। চারদিকে যতদূর চোখ যায়, শুধু শাপলা আর শাপলা। পানির বুকজুড়ে ফুটে থাকা লাল-সাদা শাপলার সারি দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকেছে এক বিশাল রঙিন ক্যানভাস।
ভোরের সূর্যের প্রথম আলো যখন বিলের পানিতে এসে পড়ে, তখন শাপলার পাপড়িতে জমে থাকা শিশির ঝিলমিল করে ওঠে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকে ফুলগুলো। মাঝ দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে ছোট ছোট নৌকা। চারপাশে নীরব প্রকৃতি আর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম মায়াবী পরিবেশ।
সাতলা বিলের সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শাপলা ফুল। বর্ষাকালে বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি ঢেকে যায় শাপলার পাতা ও ফুলে। লাল-সাদা শাপলার অপরূপ সমারোহ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কেউ নৌকায় ঘুরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন, আবার কেউ ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে রাখেন স্মরণীয় মুহূর্ত।
বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সাতলা বিলের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পানির ওপর সূর্যের সোনালি আভা আর তার মাঝে ফুটে থাকা শাপলা—দৃশ্যটি যে কাউকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ব্যস্ত নগরজীবন থেকে দূরে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের কাছে সাতলা বিল শুধু একটি বিল নয়; এটি তাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রকৃতির এক অপরূপ উপহার। বিলের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ। পাশাপাশি পর্যটকদের আনাগোনায় স্থানীয়ভাবেও তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ।
তবে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজন সচেতনতা। পর্যটকদের অসচেতন আচরণ, প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা কিংবা শাপলা নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ড সাতলা বিলের পরিবেশের জন্য হুমকি হতে পারে। তাই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বিলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতনরা।
বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিল যেন প্রকৃতির এক নীরব কবিতা—যেখানে পানির বুকে ফুটে থাকা শাপলা বলে যায় সৌন্দর্যের গল্প। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির কাছে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সাতলা বিল হতে পারে এমন এক গন্তব্য, যেখান থেকে ফিরে আসার পরও চোখে লেগে থাকবে লাল-সাদা শাপলার সেই মায়াবী দৃশ্য।
সাতলা বিল—যেখানে বর্ষা মানেই শাপলার উৎসব, আর প্রকৃতি মানেই এক টুকরো স্বর্গ।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

মতামত