বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন শিশু-কিশোরদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর বয়স যত কম, মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যাপারে অভিভাবকদের তত বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুর ঘুম, শারীরিক কর্মকাণ্ড, মনোযোগ, ভাষা শেখা এবং পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
০–২ বছর
এই বয়সে মোবাইল থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা সবচেয়ে জরুরি। ভিডিও দেখিয়ে খাওয়ানো বা শিশুকে শান্ত করার অভ্যাস না করাই ভালো। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও সরাসরি যোগাযোগ শিশুর বিকাশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২–৫ বছর
এই বয়সেও মোবাইলের ব্যবহার খুব সীমিত ও অভিভাবকের নজরদারিতে রাখা উচিত। প্রয়োজন হলে বয়স-উপযোগী শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় মোবাইল হাতে দেওয়া ঠিক নয়।
৬–১২ বছর
এ বয়সে স্কুল, পড়াশোনা ও বিনোদনের প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে। তবে নিজস্ব মোবাইল সারাক্ষণ হাতে রাখার সুযোগ না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট নিয়ম এবং অভিভাবকের তত্ত্বাবধান থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
১৩–১৮ বছর
কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার চেয়ে নিয়ম ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতের বেলায় মোবাইল বিছানায় না নেওয়া, পড়াশোনার সময় ফোন দূরে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা
শিশু কান্না করলে বা খেতে না চাইলে প্রতিবার মোবাইল দিয়ে শান্ত করার অভ্যাস করা উচিত নয়। ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারও এড়িয়ে চলা ভালো। শিশুর হাতে মোবাইল দেওয়ার পরিবর্তে গল্প বলা, বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ানো উচিত।
সারকথা:
০–২ বছর: যতটা সম্ভব স্ক্রিনমুক্ত
২–৫ বছর: খুব সীমিত ও অভিভাবকের সঙ্গে
৬–১২ বছর: নিয়ম ও সময়সীমা নির্ধারণ করে
১৩–১৮ বছর: দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
সন্তানের হাতে মোবাইল দেওয়ার আগে ভাবুন—মোবাইলটি কি তার প্রয়োজন, নাকি আমাদের সুবিধা।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত