গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৪নং জামালপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বড় জামালপুর শাহী জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত ছবি ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল স্থাপন করে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। এতে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু, সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. এরশাদুল হক ইমন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম সুমন এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. মেজবাউল ইসলাম রাসেদসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক নাম কী ছিল, কী উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল এবং মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মসজিদ কমিটির লিখিত বা মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বরং অনেকে এ বিষয়টি সামাজিককে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে হুমকি ধামকির মাধ্যমে ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন জামাত নেতারা।
মসজিদ মুসলমানদের ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি আয়োজন করা হলে স্বাভাবিকভাবেই মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশেষ করে বড় জামালপুর শাহী জামে মসজিদটি স্থানীয় একটি সাধারণ মসজিদের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেও পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০০ বছর বলে স্থানীয় ইতিহাস ও জনশ্রুতির ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনার ভেতরে রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি আয়োজনের ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—মসজিদ কি রাজনৈতিক সংগঠনের বৈঠকের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে? আর ব্যবহার করা হলে এর অনুমোদন বা নীতিগত ভিত্তি কী।
কর্মসূচির বিষয় কী ছিল।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই আয়োজনকে নির্দিষ্টভাবে “কর্মীসভা”, “দাওয়াতি সভা”, “মতবিনিময় সভা” বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট নামে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করার মতো দলীয় বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।
তবে সাদুল্লাপুরে জামায়াতে ইসলামী নিয়মিত সাংগঠনিক ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামায়াতের ইউনিয়নভিত্তিক দাওয়াতি গণসংযোগ কর্মসূচিতে জামালপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে।
এ কারণে বড় জামালপুর শাহী জামে মসজিদের ভেতরে আয়োজিত আলোচিত কর্মসূচিটিও দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ ছিল কি না—তা পরিষ্কার করতে আয়োজকদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—মসজিদের ব্যবহারে নীতিমালা কী।
স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা সংগঠনও একইভাবে ধর্মীয় স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দাবি করতে পারে। এতে মসজিদের নিরপেক্ষ ধর্মীয় পরিবেশ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
তবে এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বক্তব্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের কাছ থেকেও জানা প্রয়োজন—কর্মসূচিটি কী উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না।
প্রশ্নের মুখে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ব্যবহার
বড় জামালপুর শাহী জামে মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি জামালপুর ইউনিয়ন পোর্টালেও সংশ্লিষ্ট শাহী মাজারকে ৪ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর মৌজায় অবস্থিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় স্থাপনার ব্যবহার নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তে ধর্মীয় পরিবেশ, মসজিদ পরিচালনা কমিটির নীতিমালা এবং স্থানীয় মুসল্লিদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত