কিশোরগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। বিশেষ করে ই-নামজারি জমা-খারিজের আবেদন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই নামঞ্জুর করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার শতাধিক মানুষ সেবা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। সকাল গড়িয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনেক সেবাগ্রহীতাকে কার্যালয়ের করিডোরে অবস্থান করতে দেখা যায়।
সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ এসেছেন মিস কেসের শুনানিতে অংশ নিতে, আবার কেউ এসেছেন ই-নামজারি জমা-খারিজের অনুমোদনের জন্য। তবে উপস্থিত অনেকের অভিযোগ, যথাযথ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাদের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। কেন আবেদন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়ম মেনে বিন্নগাঁও মৌজায় ই-নামজারি জমা-খারিজের আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে প্রস্তাব দেওয়ার পর সদর এসিল্যান্ড কার্যালয়ে শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো স্পষ্ট কারণ না জানিয়ে তার ৯৮১ নম্বর কেসের আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আলমপুর মৌজার রিপন মিয়া, যার কেস নম্বর ১৩৫; লতিবপুর মৌজার খোকন মিয়া, কেস নম্বর ১২৬৭ এবং শেওড়া মৌজার বিল্লাল হোসেন, কেস নম্বর ১২৩৪। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদেরসহ প্রায় দুই শতাধিক ই-নামজারি জমা-খারিজের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারণ দেখিয়ে অনেক আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রই তারা জমা দিয়েছিলেন।
অফিস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সামা ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যোগ দেন। পরে দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণের কারণে তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ দায়িত্ব পালন করেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও কামরুল হাসান মারুফের আইডিতে থাকা যেসব ই-নামজারি জমা-খারিজের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল, সেগুলোর মধ্য থেকেও কিছু আবেদন বর্তমান এসিল্যান্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর বাতিল করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সদর এসিল্যান্ড নাজমুস সামার বক্তব্য জানতে সকালে ও বিকেলে কার্যালয়ে গিয়ে তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সেবাগ্রহীতারা তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ই-নামজারি আবেদন বাতিলের কারণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

মতামত