জামালপুরের আলোচিত গৃহবধূ ইসরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সামনে আসামির দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, কথিত অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি কাউসারকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি করেছেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামির বক্তব্যসহ ঘটনার সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে ইসরাত জাহান মিমির বিয়ে হয়। ২০২১ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি জামালপুর শহরে বসবাস করছিলেন।
আটক কাউসারের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে তার মুদি দোকানে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নেওয়া হয় বলে তার দাবি।
কাউসারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাকে কথিত অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো হয় এবং সেই সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করা হতো এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এ ঘটনার কারণে তার পারিবারিক ও আর্থিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জমানো টাকা, জমি বিক্রির অর্থ এবং পারিবারিক অলঙ্কার বিক্রির অর্থও নেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
টাকা ও সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ চরমে
সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে থাকে বলে কাউসার দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, তাকে অন্য ব্যক্তিদের একই ধরনের ফাঁদে ফেলতে সহযোগিতা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে টাকা-পয়সা ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
আসামির দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিমি তার স্ত্রীকে ফোন করে তাদের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে কাউসার জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন।
তদন্তে মিলবে প্রকৃত উত্তর
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখনো হত্যাকাণ্ডের সব দিক যাচাই করছেন। আসামির বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিজিটাল তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজন, স্থানীয় মানুষ ও সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আসামির দেওয়া বক্তব্য ও অভিযোগ তদন্তাধীন দাবি মাত্র। আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

মতামত