সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নে একের পর এক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। কোথাও সৌরবিদ্যুতের বাতি থাকলেও ব্যাটারি চুরির পর অন্ধকারে ডুবে আছে গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট, আবার কোথাও কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
বিশেষ করে গণিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নদীর পূর্বপাড়ের খেয়াঘাট এবং নোয়াখালী বাজার ও পাথারিয়া বাজারসংলগ্ন ব্রিজ দুটির অসম্পূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, বিচ্ছিন্নভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাসারচর, নতুন জাহানপুর ও আমদাবাদসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ।
গণিগঞ্জ খেয়াঘাটে সোলার বাতি অচল,
গণিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ নদী পারাপার করেন। নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষের জন্য ঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও পূর্বপাড়ে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতির ব্যাটারি চুরির পর থেকে সন্ধ্যা হলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
অন্ধকারে নদীর পাড়ে ওঠানামা, নৌকার জন্য অপেক্ষা এবং পিচ্ছিল কাদামাটির পথ দিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু চুরি যাওয়া ব্যাটারি প্রতিস্থাপন নয়—খেয়াঘাটের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাড়ে স্থায়ী ও নিরাপদ আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিজ নির্মাণ হলেও মিলছে না যোগাযোগের সুফল
পাথারিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার আরেকটি বড় সমস্যা হলো অসম্পূর্ণ সংযোগ সড়ক। নোয়াখালী বাজার ও পাথারিয়া বাজারসংলগ্ন দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় সড়ক নেটওয়ার্ক পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় আশপাশের জনপদের মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না।
নোয়াখালী ব্রিজের সঙ্গে জামলাবাদ সড়কের সংযোগ থাকলেও জামলাবাদ শেষমাথা পেরিয়ে আমদাবাদ, হাসারচর ও নতুন জাহানপুরের সঙ্গে কার্যকর সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে পাথারিয়া ব্রিজ দিয়ে আসামমুড়া হয়ে শ্রীনাথপুর ও পুরাতন জাহানপুরের দিকে যোগাযোগ থাকলেও নতুন জাহানপুর ও হাসারচর সহ কয়েকটি জনবহুল এলাকা এখনো কাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে,
শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পানি, কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
কাছাকাছি এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় স্থানীয়দের অনেক সময় ঘুরপথে চলাচল করতে হয়। এতে অতিরিক্ত সময় গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উন্নয়ন কি শুধু ব্রিজ নির্মাণেই শেষ।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—ব্রিজ নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক না থাকলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাবে। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি খেয়াঘাটে আলোর ব্যবস্থা করে তা রক্ষণাবেক্ষণ না করলে নিরাপদ যাতায়াত কীভাবে নিশ্চিত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, গণিগঞ্জ খেয়াঘাটের উভয় পাড়ে স্থায়ী আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নোয়াখালী ও পাথারিয়া বাজারসংলগ্ন ব্রিজগুলোর অসম্পূর্ণ সংযোগ সড়ক দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে হাসারচর, নতুন জাহানপুর ও আমদাবাদকে মূল সড়ক যোগাযোগের আওতায় এনে একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং নির্মিত অবকাঠামোর প্রকৃত সুফল পৌঁছে দেবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

মতামত