স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর দেশের ২০ কোটি মানুষের কাছে প্রশ্ন। বলুন তো বাংলাদেশ কেন স্বাধীন হয়েছিল? পাকিস্তানিয়া আমাদের উপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল। তাই কি নির্যাতন করেছিল? আপনি কি জানেন ২১শে ফেব্রুয়ারিতে মোট কতজন মানুষ মারা গিয়েছিল? সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার সহ সর্বোচ্চ সাত জনের বেশি নাম কোথাও দেখতে পাবেন না।
১৯৬৯ এর পুরো গণঅভ্যুত্থানে আমানুল্লাহ, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ওরফে, আসাদ, মতিউর রহমান মল্লিক, ডক্টর শামসুজ্জোহা সহ সর্বোচ্চ পাঁচজনের নাম বলতে পারবেন। যদিও উইকিপিডিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়ে থাকে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ৩৯ জন আর ৬৯ এ গণঅভ্যুত্থানে মোট ৬১ জন মারা গিয়েছিল। কিন্তু এই ৩৯ কিংবা ১০০ জনের নামের তালিকা আজ পর্যন্ত কোথাও প্রকাশ করতে পারেনি। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এটাই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের হাতে পূর্ব পাকিস্তানের মৃত্যুর মোট সংখ্যা।
পাকিস্তানের ব্যাপারে আমাদের যে ইতিহাস শেখানো হয়েছে তার পুরোটাই যে মিথ্যা তার প্রমাণ আমাদের চোখের সামনেই আছে। পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে সবসময় একটি অভিযোগ করা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানিরা নাকি আমাদের চরম বঞ্চিত করেছে আর ভারত আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। যে কারণে ভারতের প্রতি আমাদের সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। আর পাকিস্তানকে কাছেই ভিড়তে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা আমাদের চিরশত্রু।
রাজনৈতিক কামড়াকামড়িতে দুই পাকিস্তান আলাদা হবার পর থেকে দুই পাকিস্তানেরই ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও বাংলাদেশের আমছালা দুটোই গিয়েছে। আর মাঝখানে লাভবান হয়েছে ভারত। ১৯৭১ এর কথিত স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা হয়েছি পরাধীন। ওদিকে পশ্চিম পাকিস্তান বীরের মত লড়াই করে যাচ্ছে চোখে চোখ রেখে। সামরিক দিক থেকে পাকিস্তান বিশ্বের প্রতিষ্ঠান অবস্থান। পৃথিবী ৪২ তম। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০ এর কাছাকাছি। বাংলাদেশের কথিত স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়েছে।
পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ শুধু দুই জায়গায় এগিয়েছে। এক তৈরি পোশাক খাত আর বিদেশের শ্রমিক রপ্তানি। এই দুই খাতের মাধ্যমেই পৃথিবীতে আমরা কামলার জাতি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছি। অথচ ৫৫ বছর আগে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা আমাদের পূর্ব পাকিস্তানকে যে শিল্প বিপ্লব ঘটিয়ে গিয়েছিল তা শুনলে এই প্রজন্মের কাছে অলৌকিক মনে হবে।
পশ্চিম পাকিস্তান মূল সভ্যতার অগ্রগামী জনপদ একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাবার সময় বাংলাদেশ অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে ছিল শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানে তখন ১১ টি বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বিদ্যা বৃদ্ধি সর্বদিক থেকে এগিয়ে থেকেও তারা আমাদের অবহেলা করেনি বরং টেনে তুলে ধরতে চেয়েছিল যদিও আমাদের চেতনার যাতনা ২৩ বছরের বেশি দুই পাকিস্তানকে একসাথে থাকতে দেয়নি।
পাকিস্তানি শাসকেরা ২৩ বছরের আমাদের পূর্ব পাকিস্তানে যে শিল্প বিপ্লব ঘটিয়েছিল তার পরের ৫৫ বছর পাকিস্তানের রয়ে যাওয়া সেই শিল্প কল কারখানাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে কোন শিল্প গড়ে তুলতে পারেনি স্বাধীন বাংলাদেশ। অথচ পাকিস্তান আমলে এদেশে ঘটেছিল নীরব এক শিল্প বিপ্লব। যে ইতিহাস আমাদের পুরো এক প্রজন্মকে জানতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের পাঠ পাকিস্তান আমলে বলা হতো সোনালী আশ। কিন্তু পাটের স্বর্ণযুগ এমনিতেই আসেনি। পাকিস্তানি শাসকদের পরিকল্পনায় বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়েছিল আদমজি জুটমিল। শুনলে অবাক হবেন নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত আদমজি জুটমিলটি তৎকালীন পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল ছিল। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত আদমজি জুটমিলটি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বাওয়া পাটকলের আদলে তৈরি করা হয়েছিল।
যেখানে উৎপাদিত উন্নতমানের পাটজাত দ্রব্য সারা পৃথিবীতে রপ্তানি করা হতো। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে পাকিস্তানের পাটজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল। স্কটল্যান্ডের ডান্ডি শহরের নাম অনুসারে আদমজি মিলকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। সেই প্রতিষ্ঠিত শিল্পটি কথিত দেশ স্বাধীন হবার পর শেখ মুজিবের পরিবারের লুটপাটে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে শতভাগ কাগজ আমদানি করছে। ৫৫ বছর আগে আমরা কাগজ রপ্তানি করতাম। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিল প্রতিষ্ঠা করে। তৎকালীন সময়ে এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাগজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ছিল এটি। যেখানে মোট ৩০০০ শ্রমিক কাজ করতো। ১৯৫৯ সালে খুলনার খালিশপুরে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান সরকার। দেশের সর্ববৃহৎ নিউজপ্রিন্ট কাগজ মিলটিতে বছরে ৫০০০০ মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদিত হতো। দেশ স্বাধীন হবার পর সেই মিলটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া ১৯৫০ সালে ঢাকা জুট মিলস একই বছর খুলনা জুটমিলস ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস এবং কর্ণফুলী রেয়ন মিল চন্দ্রঘোনা পেপার মিল প্রগতি ইস্টার্ন ইস্পানি কটন মিলস এবং ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বাংলাদেশের উপর নির্যাতনকারী পশ্চিম পাকিস্তানিরাই তৈরি করেছিল। ৫৫ বছরে আর একটিও তেল শোধনাগার তৈরি করতে পারেনি স্বাধীন দেশের সরকার। পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ, কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান করে পাকিস্তান সরকার।
পূর্ব পাকিস্তানে এক মহাশিল্প বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। শিল্পায়নের লক্ষ্যে ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কমিশনারকে চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাস্ট হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। এছাড়া মংলা সমুদ্র বন্দর, গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখানা, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্পাঞ্চল, খুলনার খালিশপুর শিল্প এলাকা, চট্টগ্রাম জুট সব করেছিল আমাদের উপর নির্যাতনকারী পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী।
অনেক চেতরাধারিরা আবার বলে থাকে পূর্ব পাকিস্তানের মিল, কল কারখানায় উপার্জিত অর্থ নাকি পশ্চিম পাকিস্তানিরা সব নিয়ে যেত। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের কোন উন্নয়ন তারা করতো না। চলুন পশ্চিম পাকিস্তানিরা এ দেশের মানুষের কল্যাণে কতটা আন্তরিক ছিল সেটা একটু দেখা যাক। প্রথমে শিক্ষা থেকে শুরু করা যাক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এর বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ হয়েছে পাকিস্তান আমলে।
শিক্ষার মনের দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল পৃথিবীর ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়। যে কারণে পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। কথিত স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের চিহ্ন মুছে ফেলার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডাকও মুছে ফেলা হয়েছে। ১০০ এর বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি এখন ১০০০ এর তালিকায়ও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
তার ব্যাপক অবদানের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম রাখা হয়েছিল জিন্নাহ হল। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বিরোধিতা করা রবীন্দ্রনাথকে পুজো করে সেই জিন্নাকে বানানো হয়েছে ভিলেন। এমনকি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হলের নাম পরিবর্তন করে ১৯৭১ সালে সূর্য সেন হল রাখা হয়েছে। যদিও রবীন্দ্রনাথের মত সূর্য সেন ও আজীবন পূর্ব বাংলার মুসলমানদের বিরোধিতা করেছিলেন। পাকিস্তানের বিখ্যাত কবি আল্লামা ইকবালের নামে ১৯৫৭ সালে ইকবাল হল স্থাপিত হয়।
১৯৭২ সালে ওই হলের নাম পরিবর্তন করে সার্জেন্ট জহুরুল হলের নামে নামকরণ করা হয়। অথচ এই জহুরুল হক ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট জহিরুল হক। ষড়যন্ত্র মামলার আসামিও ছিল এই ভারতীয় এজেন্ট জহিরুল হক। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ববৃহৎ হল মহসীন হল সহ বেশিরভাগ অবকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান আমলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাকিস্তান আমলে কতটা জৌলুস ছিল তার প্রমাণ স্যার পিএইচডি ইন্টারন্যাশনাল হল প্রতিষ্ঠা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান আমলে এত বেশি বিদেশী শিক্ষার্থী আসত যে তাদের আবাসনের জন্য একটি হল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
যে কারণে ১৯৬৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেল নামে আলাদা একটি ছাত্রাবাস করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর স্যার পিএইচডি ইন্টারন্যাশনাল নামকরণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান সরকার। পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সরকার প্রতিষ্ঠিত করে।
করতে পারেনি। বরং দিন দিন বুয়েট সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নষ্ট করা হয়েছে। মাত্র ২৩ বছরে পাকিস্তান মোট চারটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে ৫৫ বছরে বাংলাদেশ সরকার করেছে মাত্র একটি। ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্র প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রুয়েট, ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েট এবং ১৯৬৯ সালে কুয়েট প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তানিরা। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এদেশের মানুষকে গড়ে তুলতে পাকিস্তানিরা যে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করে দিয়েছিল চেতরাধারিরা সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আজ তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন।
পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ১১ বছরের শাসনকাল ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে উন্নয়নের এক পঞ্চ বার্ষিক বসিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। ঢাকা শহরের নটরডেম কলেজ, রেসিডেনসিয়াল কলেজ, স্কলার্স কলেজ সহ শীর্ষ ২১ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ, রংপুর কারমাইকেল কলেজ, পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ, বরিশালের বিএম কলেজ, কারিগর ও বিশেষায়িত কলেজ সহ অসংখ্য মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিল আইয়ুব খানের সরকার।
যে সমমানের কলেজ ৫৫ বছরে নতুন করে একটিও করতে পারেনি কথিত স্বাধীন দেশের সরকার প্রধানরা। কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৫৫ সালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক সহ মোট ১৭ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিল। পাকিস্তান সরকারের দেখানো পথ ধরে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ৫৫ বছরে ৩২ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু এগুলো পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠিত পলিটেকনিক গুলোর মানের ধারে কাছেও যেতে পারেনি।
এছাড়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কলেজ অফ হোম ইকনমিক্স, শারীরিক শিক্ষা কলেজ, সার্ভে ইনস্টিটিউট সহ কারিগরি শিক্ষার সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ৬০ এর দশকে আইয়ুব খানের शासনামলে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুটেক্স এর পূর্ব নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। যা ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঢাকা আণবিক শক্তি কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ, আইডিআরআই ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে আনাদার পাকিস্তানি সরকার।
ব্রিটিশদের ২০০ বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশ অঞ্চলে শুধুমাত্র একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেছিল ব্রিটিশ সরকার। যেটি বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যদিও সে সময় এর কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সীমিত। পাকিস্তানের ২৩ বছরে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য চিকিৎসার সেবায় ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঢাকা মেডিকেলের বর্তমান আধুনিক রূপ দেয়া হয় তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পাকিস্তানি চিকিৎসক।
এসব চিকিৎসকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফরেনসিক মেডিসিনে ডাক্তার এম হোসেন, নিউরোলজিস্ট মোজাফফর খান, ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রফেসর আলতাফ আহমেদ, প্যাথলজি বিভাগে প্রফেসর আনোয়ার আলী এবং ডাক্তার কাজী আব্দুল খালেক, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় প্রফেসর হাবিবউদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর হুমায়ুন সাইদা। মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক নোয়াব আলী ও প্রফেসর মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সার্জারি বিভাগে ফেকটে কর্নেল সিগাস উদ্দিন এবং প্রফেসর আমির উদ্দিন প্রমুখ। যাদের সকলেই পাকিস্তানি চিকিৎসক ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল ছাড়া ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ১৯৫৮ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ১৯৬২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। একই বছর সিলেট মেডিকেল কলেজ এবং পরের বছর ১৯৬৩ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ সহ সব মেডিকেল কলেজগুলো পাকিস্তান সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
এছাড়া শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৬৮ সালে। রংপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭০ সালে। ১৯৬৫ সালে ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল রিসার্চ বা আইপিজিএমআর প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান সরকার। বর্তমান যেটিকে আমরা পিজি হাসপাতাল হিসেবে চিনি। ৫৫ বছরে এই মানের কোন পোস্ট গ্রাজুয়েট রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বাংলাদেশের সরকাররা। কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল বা সিএমএইচ হাসপাতালের পূর্ব নাম ছিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্ট মির্জা হাসপাতাল নামে। একইভাবে চট্টগ্রাম, বগুড়া, যশোর, কুমিল্লা, সিলেট, সাভার খাঁটাইলে, চট্টগ্রাম শহর সবখানেই নাম পরিবর্তন করে সিএমএইচ রাখা হয়েছে।
কিন্তু এর আসল কারিগর ছিল পাকিস্তান সরকার। অনেকে বলে থাকে সশস্ত্র বাহিনীর চাকরির ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে বঞ্চিত করা হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো সুঠাম দেহের অধিকারী পাকিস্তানিদের জন্য ব্রিটিশ এবং জার্মানির আদলে অনেক আগে থেকেই ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল পাকিস্তানে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালের আগ পর্যন্ত কোন ক্যাডেট কলেজই ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার সেই বৈষম্য দূর করতে ১৯৫৮ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ১৯৬৩ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ সর্বশেষ ১৯৬৫ সালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিল পাকিস্তান সরকার।
যাতে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকরাও সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের জন্য দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। এখনো পাকিস্তান সরকারের তৈরি করে দিয়ে যাওয়া সেই ক্যাডেট কলেজগুলোই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে টিকিয়ে রেখেছে। এছাড়া ডক নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় মার্চেন্টাইল মেরিন একাডেমি। বর্তমানে যার নাম বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি। সেটি এখন পর্যন্ত দেশের নৌবাহিনীর প্রধান শক্তির উৎস। বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও শিল্পোন্নত পরিকল্পিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পাকিস্তান সরকার যা যা করা প্রয়োজন সব করেছে। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মত পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাগুলো পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা করা। সম্প্রতি পূর্বাচল ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ছাড়া ৭১ এর পর এদেশের সরকার কোন পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে পারেনি।
অবকাঠামোগত দিক থেকে বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ ছিল পাকিস্তান আমল। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, ঢাকা, সিলেট, ঢাকা, খুলনা সহ দেশের প্রায় সকল মহাসড়ক পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়াও দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল অবকাঠামো গুলো পাকিস্তান সরকারের করা। যেমন ১৯৬৮ সালে চালু করা হয় কমলাপুর স্টেশন যা তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম নির্মাণ শৈলীর একটি। শাসন ব্যবস্থায় সমতার লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ শুরু করে। যা এখনো আধুনিক স্থাপত্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া বায়তুল মোকাররম, ইসলামিক একাডেমি বা বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মিরপুর চিড়িয়াখানা কুমিল্লা বিমানবন্দর, বাংলা একাডেমি, রামপুরা টেলিভিশন ভবন, ঢাকা স্টেডিয়াম, ঢাকা জাদুঘর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সহ বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো পাকিস্তান সরকারের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত।
কথিত স্বাধীনতার পর শেখ পরিবার আর আওয়ামী লীগের দলীয়করণ আর লুটপাটে নতুন কোন প্রতিষ্ঠান করতে পারেনি। বরং পাকিস্তানের রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে দিন দিন। বাংলাদেশ বেতার ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান সরকার। ঢাকা নিউ মার্কেট সহ সারাদেশের জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে নতুন মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও পাকিস্তান সরকারের। ১৯৭১ এর পর গেল ৫৫ বছরে বাংলাদেশে যত উন্নয়ন হয়েছে দুই পাকিস্তান একসাথে থাকলে এসব উন্নয়ন আরো ৫০ বছর আগে হতো!
বাংলাদেশের মানুষের কাছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নতুন বিষয়। কিন্তু জেনে অবাক হবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৬১ সালে। সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে রূপপুর নির্ধারিত হয়েছিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। সেই লক্ষ্যে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অর্থ এবং প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ২০০ কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া ৯০ এর দশকে উদ্বোধন হওয়া যমুনা সেতুর প্রস্তাবও ১৯৬৬ সালের অধিবেশনে পাস করা হয়েছিল। পাকিস্তান সরকারের এসব কর্মকাণ্ড এখনো উইকিপিডিয়াতে দলিল হিসেবে রয়েছে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয় বাংলাদেশের সব অর্জনের গোড়াপত্তন হয়েছিল পাকিস্তান আমলে।
আর কথিত স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে আমরা সব হারিয়েছি। এ ধরন ৬০ ৭০ এর দশকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের ফুটবল আর ক্রিকেট যে উন্নয়ন করে দিয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ৮০ ৯০ এর দশক পর্যন্ত চলেছে বাংলাদেশে। ৯০ এর দশক পর্যন্ত ফুটবলের যে জনপ্রিয়তা ছিল সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতো। তৎকালীন সময়ে আবাহনী মহামেডান ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সরকারি ছুটি পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছিল তখনকার সরকার। অনেকেই বলে থাকেন পূর্ব পাকিস্তানিদের নাকি তেমন পাত্তা দিত না পশ্চিম পাকিস্তানিরা। অথচ ১৯৭০ সালেও যুক্ত পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্যের মাননীয় স্পিকার মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ।
ফুটবলের সেই সোনালী সময় এখন আর নেই। ১৯৯৭ সালে ক্যানিয়ার সাথে নাটকীয়ভাবে আইসিসি এর সেই ম্যাচ না জিতলে ক্রিকেটেও বাংলাদেশ একদিন হারিয়ে যেতো। অথচ ক্রিকেটের উন্নয়নও সেই পাকিস্তানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তী রকিবুল হাসান সহ যেসব তারকাদের হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট উঠে দাঁড়িয়েছিল তারা সবাই পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য। তাদের কারণেই আমরা আজ বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। একই অবস্থা সংস্কৃতি অঙ্গনেও।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের যত নক্ষত্র সবই পাকিস্তানের তৈরি। বলেন স্বাধীনতার পর দেড় দশকে সেই ধাক্কাতেই চলেছে বাংলাদেশ। কথিত স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা পেয়েছি জাহেদ খানের মমতাহীনতার মত শিল্পী। বাংলাদেশের পাকিস্তান আমলে পাওয়া সব অর্জন ধ্বংস করে বাংলাদেশের মানুষ এখন পুরোপুরি ভারতের সংস্কৃতি নির্ভর হয়ে উঠেছে। এটাই আমাদের ২৩ বছরের বন্ধনার ইতিহাস। এবার চলুন কথিত স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আমরা কতটুকু এগিয়েছি সেটা দেখা যাক। ৫৫ বছরে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু একটি আলোচিত শাখা খুলতে পেরেছি, সেটা হলো চারুকলা। এ শাখায় পড়ুয়া বিজ্ঞানীরা প্রতিবছর বিশাল বিশাল মিসাইল রকেট স্যাটেলাইট উৎপাদন সহ নানা ধরনের আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের মাথায় বিচরণ করছে।
৫৫ বছরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে নারী নির্যাতনের দিক থেকে। প্রতিটি অফিস আদালতে এখন নারীরা সেখানকার পুরুষদের লালসার শিকার। দেশ পেরিয়ে নারীদের এখন পাঠানো হচ্ছে বিদেশে। সেখানে সকালে বাবার দুপুরে ছেলেরা আর রাতে মেঘের জামাইয়ের ধর্ষণের শিকার হচ্ছে আমাদের মা বোনেরা। আরেকটি গড়ে উঠতি নারীদের এক ধরণের তৈরি পোশাক শিল্প। অন্যের সুতা, অন্যের কাপড়, অন্যের করা অর্ডারে বাংলাদেশে এনে কাপড় তৈরির পর অন্যের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে যে আয় রোজগার হয় তা দিয়ে বাংলাদেশের কিছু গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর পকেট ভারী হয়। কিন্তু দেশের কিংবা গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোন উন্নতি হয় না।
ইদানিং টিকটক শিল্পের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। ঘরে ঘরে এখন টিকটকার আর নারী-পুরুষের অশালীন অঙ্গভঙ্গি। আর বেহায়াপনায় ছেয়ে গেছে সোশাল মিডিয়া। সব মিলিয়ে চারদিকে পরকিয়া বিবাহ বিচ্ছেদ পারিবারিক অশান্তি যেন এক মহামারী রূপ ধারণ করেছে। ভক্ত রাজনীতিবিদের বক্তব্য আমাদের বীরের জাতি হিসেবে পরিচয় দিলেও সারা দুনিয়ায় আমাদেরকে বানিয়ে রাখা হয়েছে ভিখারীর জাতি। কোথাও এ জাতিকে সম্মান দেওয়া হয় না। কথিত স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি লাভ যেটা হয়েছে তা হলো শেখ পরিবার। শেখ পরিবার আর আওয়ামী লীগের লুটপাটে স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছরে না খেয়ে মারা যায় ১৫ লাখ মানুষ।
আওয়ামী লীগের তৈরি রক্ষী বাহিনীর নৃশংসতায় মারা গিয়েছিল আরও ৪৫ হাজার মানুষ। পাকিস্তানের ২৩ বছরে পুরোপুরি পাকিস্তানের ধর্ষণের মামলা হয়েছিল মাত্র ১৬৭৪ টি। আর কথিত স্বাধীনতার পর শুধুমাত্র ৭৫ পর্বতেই বাংলাদেশে মোট ধর্ষণের মামলার সংখ্যা ছিল ১১,৩২৬ টি। তারপরেও এই স্বাধীনতাকে বাঙালির চরম পাওয়া হিসেবে স্বীকৃতি করা হয়েছে। আর পাকিস্তানকে বানানো হয়েছে চিরশত্রু। কথিত সেই স্বাধীনতা যুদ্ধেরও প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে মিথ্যা আর অসত্যের ধুম্রজাল। বলা হয়ে থাকে পাকিস্তানিরা আমাদের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ২ লাখ মা বোনদের ধর্ষণ করেছে। অথচ ৩০ লাখ মানুষ মারা গেলে প্রতি গ্রামে ৪৫ জন করে মানুষ মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ৪৫ গ্রামে খুঁজেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করেছে এমন একজন মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যায় না।
এটা হলো না ওই যুদ্ধের পর যে গ্রামের দোকানদার যে মহিলা ও বীরাঙ্গনা নেই। ৭১ সালে ওর জন্মই হয়নি। চৌগাছা এলাকা হল যশোরের একটা অংশ যেখানে ৩টা যুদ্ধ হয়েছে। সেখানে ১০ জন নারীর ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে। আমি সরজমিনে যাই। কোন নারীকে পাই নাই। নারী পাওয়া গেছে। কেউ স্বীকার করে নাই আমরা এমনি মিথ্যা কথা। কথিত ৩০ লাখ শহীদের ৩০ হাজারেরও নাম আজ পর্যন্ত কোন সংস্থা গাওতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তারপরেও ভারতের তৈরি করা ইতিহাসের গীত আমরা ৫৫ বছর ধরে গেয়েই চলছি।
দুই লাখ ধর্ষণের যে আজগুবি গল্প বানানো হয়েছিল সেগুলোও মিথ্যা ভিত্তিহীন। সারাদেশে ঘুরে যে কজন কথিত বীরাঙ্গনা পাওয়া গেছে তারাও এলাকায় চিহ্নিত দেহ ব্যবসায়ী। কেউ কেউ সরকারি ভাতার জন্য নিজেদের নামের সাথে শেখ মুজিবের দেহই এটা। যুদ্ধের সময় মুজিবের সাথে কোথায় দেখা হচ্ছিল আপনাদের? গোপালগঞ্জে। গোপালগঞ্জ না ঢাকা বইয়া যিনি কাইতে দে নালে দুই থেকে ৫০০ আমি মারছি। এভাবে পাকিস্তানের সাথে আমাদের চরম দূরত্ব তৈরি করে আমাদের পরাধীন করে রেখেছে ভারতের মিডিয়া।
একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে অন্তত সমানটুকু আমাদের নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর সীমান্তে আমরা বসবাস করি যেখানে প্রতিদিন পাখির মত মানুষ হত্যা করলেও তার কোন বিচার নেই। অথচ পাকিস্তান আর্থিকভাবে খুব স্বচ্ছল হতে না পারলেও তারা সম্মান নিয়ে বেঁচে আছে এবং ৭১ এর যুদ্ধের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যদিও পাকিস্তানের ব্যাপারে আমাদের কে যেভাবে জানানো হয় পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। বাংলাদেশের মানুষকে বিশেষ করে শাহরিয়ার কবিরের ব্যাংকার যোদ্ধা।
জাফর ইকবালদের মত কিছু প্রগতিশীলদেরকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় পাকিস্তান সম্পর্কে দু চার লাইন বলে যান তাহলে তার আপনার সামনে যে চিত্র তুলে ধরবে তা যদি সংক্ষেপ করা হয় তাহলে ঠিক এমন দাঁড়াবে। পাকিস্তান অত্যন্ত গরীব পিছিয়ে পড়া একটি দেশ। এই দেশে স্কুল কলেজে কিছুই নেই। শুধু কয়েকটি কওমী মাদ্রাসা আছে যেখানে ককটেল বানানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হয়। এই ককটেল দিয়েই ভারতের সীমান্তে তারা যুদ্ধ করছে। পাকিস্তানে কোন মিল, কল, কারখানা কিছুই নেই। যে কারণে তারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক পণ্য এমন কি মোটরসাইকেল পর্যন্ত তৈরি করতে পারে না।
গাড়ি সবই বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে। ঐ দেশে কোন রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার তো দূরের কথা। পায়ে হাটার মত কোন রাস্তাও তৈরি করতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের নারীরা কাথা কম্বল গায়ে দিয়ে রাস্তায় বের হয়। লেখাপড়া চাকরি বহুদূরের কথা কোন নারী রাস্তায় বের হলেই তার গলা কেটে ফেলে পাকিস্তানিরা। কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম। পাকিস্তান এখন পৃথিবীর অন্যতম পরাশক্তি। তারা নিজেরাই এখন ফাইটার জেট তৈরি করছে। মহাকাশেও চীনের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে পাকিস্তান। ভারতের সাথে পাল্লা দিয়ে সামরিক খাতে বিশাল বিনিয়োগের কারণে অন্যান্য ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিশ্বনীয়।
বিশাল সেতু, সড়ক, মহাসড়ক, পর্যটন, জোান, চীনের সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল। কারাকোরাম হাইওয়ে থেকে শুরু করে কিছুই নেই এখন পাকিস্তানের? দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পরিকল্পিত শহর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গিলগেট বালগিস্তানকে বলা হয় প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। এতসব সফলতার পরেও ভারতীয় মিডিয়া দাপটে বিশ্বের বুকে কোন ঠাসা দেশটি। ভারতের অর্থে পাকিস্তানের ভেতরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর কাছে পাকিস্তানকে উপস্থাপন করা হয়েছে এক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে। যে কারণে সারা বিশ্বে নেতিবাচক রূপে উপস্থাপিত হচ্ছে পাকিস্তান।
সে একই কৌশল বাংলাদেশেও বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। আর আগে ৫ই আগস্টের আগে কৃত্রিম জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করেছে। তারা কিন্তু ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেই জাস্টিস নেই। পুরাতন কৌশলের সুবিধা করতে না পেরে তৈরি কি তালেবান নাম নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নতুন খেলা শুরু করেছে। কিন্তু সেখানেও বাদ সেজেছে পাকিস্তান। ভারতীয় সেই ষড়যন্ত্র হাত থেকে পাকিস্তানকে বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে যে কারণে বাংলাদেশের আসন বিপদ থেকে বাঁচার জন্য পাকিস্তানের সাথে এক হয়ে লড়তে হবে ভারতের বিরুদ্ধে। দুই পাকিস্তান একসাথে থাকার ২৩ বছর পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের সাথে কি আচরণ করেছে সেটা শুরুতেই আলোচনা করা হয়েছে।
তারপরেও চুক্তির খাতিরে মনে করুন পাকিস্তান আমাদের সাথে অনেক বৈষম্য করেছে। তারপরেও পাকিস্তানকে আমাদের দরকার। কারণ শত্রুর শত্রু সবসময় বন্ধু। পাকিস্তান বাংলাদেশে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। অতএব পাকিস্তানকে আমাদের বন্ধুর মত পাশে চাই যারা ৭১ এর অজুহাতে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইবে তারাই ভারতীয় আসল দালাল তারা সবসময় চায় আমরা ভারতের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকি ৭১ সালের যুদ্ধকে বারবার। টেনে এনে দুই পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরানো হয় যে পাকিস্তানের মানুষ যখন পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে মঙ্গল
গ্রহে যাবার গবেষণা করছে চেতনার বাংলাদেশ তখন মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে ব্যস্ত অতএব সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেবার মাথা উঁচু করে থাকতে চাই বাঙালি জাতির পরাধীন হয়ে দিন পৃথিবীর কোন শক্তির কাছেই মাথা নত না করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে চাই।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

মতামত