জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের বলি সাগরিকা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই করুণ মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু: হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার ঝাড়ফুঁকে চরম অবহেলা

কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু: হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার ঝাড়ফুঁকে চরম অবহেলা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর সাপের কামড়ে সাগরিকা (২৬) নামে এক গৃহবধূর অকাল মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে চিকিৎসার অমূল্য সময় নষ্ট হওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিলে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের বলি হতে হলো এই গৃহবধূকে।

নিহত সাগরিকা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটার পাড়া গ্রামের নূরে আলম জিকুর স্ত্রী এবং জামাল উদ্দিনের কন্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়ির বাইরে টয়লেটে যাওয়ার সময় সাগরিকাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। ঘটনার পর পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে ঝাড়ফুঁকের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়। ফলে রোগীর শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে।

অবস্থার চরম অবনতি হলে রাত আড়াইটার দিকে তাঁকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম মজুত থাকলেও সচেতনতার অভাবে প্রাণটি বাঁচানো গেল না।

ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, নিহতের বাবার অপমৃত্যু মামলার ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাপে কাটার ঘটনায় ওঝা বা কবিরাজের ওপর নির্ভর না করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন ও চিকিৎসকরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু: হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার ঝাড়ফুঁকে চরম অবহেলা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর সাপের কামড়ে সাগরিকা (২৬) নামে এক গৃহবধূর অকাল মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে চিকিৎসার অমূল্য সময় নষ্ট হওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিলে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের বলি হতে হলো এই গৃহবধূকে।নিহত সাগরিকা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটার পাড়া গ্রামের নূরে আলম জিকুর স্ত্রী এবং জামাল উদ্দিনের কন্যা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়ির বাইরে টয়লেটে যাওয়ার সময় সাগরিকাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। ঘটনার পর পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে ঝাড়ফুঁকের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়। ফলে রোগীর শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে।অবস্থার চরম অবনতি হলে রাত আড়াইটার দিকে তাঁকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম মজুত থাকলেও সচেতনতার অভাবে প্রাণটি বাঁচানো গেল না।ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, নিহতের বাবার অপমৃত্যু মামলার ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাপে কাটার ঘটনায় ওঝা বা কবিরাজের ওপর নির্ভর না করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন ও চিকিৎসকরা।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু: হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার ঝাড়ফুঁকে চরম অবহেলা
0:00 0:00
1.0x