ঘোষণায় লেখা ছিল ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’। ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার বা ১০ লাখ টাকার কিছু বেশি। কিন্তু মোংলা বন্দরে এসে চালানটির প্যাকেট খুলতেই চোখ ছানাবড়া কাস্টমস গোয়েন্দাদের। সেখানে ছিল না কোনো আলাদা খুচরা যন্ত্রাংশ; বরং আস্ত চারটি বিলাসবহুল গাড়িকে তিন থেকে চারটি বড় টুকরো করে কেটে আনা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা!
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খালাস স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা। পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হলে বেরিয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদ্ধার করা বিলাসবহুল গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডব্লিউ ৬৫০ আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং একটি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গাড়ির খণ্ডগুলোর সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার, সেন্সর এবং অন্যান্য মূল যন্ত্রাংশ যেভাবে সংযুক্ত ছিল, তা সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো নয়। টুকরোগুলো পুনরায় জোড়া দিলেই গাড়িগুলো তাদের মূল রূপ ফিরে পাবে।
ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ নামের এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাপানের ‘আশিকাগার মাহি কার পোর্ট’ থেকে এই চালানি এনেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সামান্য কয়েক লাখ টাকা শুল্ক দিয়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া। আইন অনুযায়ী, সম্পূর্ণ গাড়ির অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এগুলোকে সাধারণ যন্ত্রাংশ না ধরে আংশিক সংযোজিত (SKD) গাড়ি হিসেবে গণ্য করে চূড়ান্ত শুল্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
কাগজে ‘কার পার্টস’ বানিয়ে শুল্ক ফাঁকির এই অভিনব কৌশল কাস্টমসের সতর্কতায় নস্যাৎ হয়ে গেলেও এটি একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—চোখ ফাঁকি দিতে কোটি টাকার গাড়ি কেটে টুকরো করা হলেও আইনের হাত থেকে নিস্তার মেলে না।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

মতামত