মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে যখন র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই মিলল প্রায় পাঁচ-ছয়টি গাঁজাগাছ। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের বক্তারকান্দি গ্রামে মাদকবিরোধী কর্মসূচি শুরুর আগেই একসঙ্গে কয়েকটি গাঁজাগাছ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার নজরে আসে গাছগুলো। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা প্রায় পাঁচ-ছয়টি গাঁজাগাছ উদ্ধার করেন।
মাদকবিরোধী র্যালির দিনেই একই এলাকায় একাধিক গাঁজাগাছ উদ্ধারের ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির আয়োজন, অন্যদিকে র্যালি শুরুর আগেই গাঁজাগাছ উদ্ধার—ঘটনাটি যেন মাদকের বিস্তারের একটি বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাদকের কারণে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বক্তারকান্দি গ্রামে উদ্ধার হওয়া প্রায় পাঁচ-ছয়টি গাঁজাগাছ কারা রোপণ করেছে এবং এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের সন্ধান পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম যেন শুধু র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। মাদক চাষ, বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এলাকাবাসী মনে করছেন, বক্তারকান্দিতে গাঁজাগাছ উদ্ধারের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মাদকের বিরুদ্ধে শুধু সচেতনতা নয়, প্রয়োজন কঠোর অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

মতামত