পরিস্থিতি বদলের আগে মনোভাব বদলানোর আহ্বান মোহাম্মদ হানিফের
ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাদের পরিস্থিতি পরিবর্তনের আগে নিজেদের মনোভাব, চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বের ধরন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ। তিনি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ফেনী জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক, জনতার অনলাইন প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক। পাশাপাশি তিনি উজ্জ্বল বাংলাদেশ টিভির সহ-নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক বিজয়ের বার্তার ফেনী জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক লেমুয়ার সমাচার পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, শুধু পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। পরিবর্তনের জন্য প্রথমে প্রয়োজন নেতৃত্বের মনোভাবের পরিবর্তন। নেতাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সাধারণ মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে অনেক জটিল পরিস্থিতিও সহজভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “পরিস্থিতি বদলানোর চেয়ে মনোভাব বদলানো অনেক বেশি জরুরি। যখন মনোভাব বদলে যায়, পরিস্থিতিও অনেক সহজ হয়ে যায়।”
তার মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্ব মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করে। তাই জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া নেতাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা শুধু পদ-পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না। একজন নেতার আচরণ, দায়িত্ববোধ, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সংকটের সময়ে পাশে থাকার মানসিকতাই তার প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।
মোহাম্মদ হানিফের মতে, বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষ নেতৃত্বের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, সহনশীলতা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে। ফলে সময়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করে নেতৃত্বের কর্মকৌশলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।
তিনি মনে করেন, জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে কিংবা মানুষের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করলে নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
ফেনী সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সময়ের পরিবর্তন ও মানুষের পরিবর্তিত প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল বয়ে আনবে না। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার অপেক্ষা না করে এখনই নিজেদের অবস্থান, চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, “মনোভাবের পরিবর্তন ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। সময়ের পরিবর্তনকে যারা উপলব্ধি করতে পারবেন, তারাই মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পারবেন।”
মোহাম্মদ হানিফের ভাষ্য, নেতৃত্বের পরিবর্তন মানে শুধু পদ-পদবি কিংবা সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন নয়। প্রকৃত পরিবর্তন হলো মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দায়িত্ববোধ, আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
তিনি ফেনী সদর উপজেলার ইউনিয়ন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। জনগণের আস্থা অর্জনকে নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সময়ের বাস্তবতা ও মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হতে পারে। তাই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের মনোভাব ও নেতৃত্বের ধরন এখনই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তার মতে, ইতিবাচক মনোভাব, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব। আর সেই পরিবর্তনের শুরু হতে হবে নেতৃত্বের ভেতর থেকেই।
সচেতন মহলের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো নেতৃত্বের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ওপর। তাই জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, মানুষের কথা শোনা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠনই হতে পারে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

মতামত